ঝড়-বৃষ্টি এলে হয় অন্যের বাড়িতে আশ্রয়, নতুবা পানিতে ভিজতে হয় রবিউলের

ঝড়-বৃষ্টি এলে হয় অন্যের বাড়িতে আশ্রয়, নতুবা পানিতে ভিজতে হয় রবিউলের

রাজশাহী

বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে দিনমজুর রবিউল করিমের (৬০)। তবুও সকাল হলেই পেটের টানে তাকে বের হতে হয় কাজের সন্ধানে। দিন শেষে যা উপার্জন করেন সেটা দিয়ে কোনো মতে স্ত্রী ও স্কুল পড়ুয়া এক মেয়ের অন্ন জোগান দেন তিনি।

এই বয়সে সারাদিন দিনমজুরি করে ক্লান্ত শরীরে মাটির মেঝেতে ছেঁড়া কাঁথার ওপর ঘুমিয়ে পড়েন রবিউল করিম।

জরাজীর্ণ পাটকাঠির বেড়ার ঘরকে খুপড়ি বলাই ভালো। যেখানে একটিমাত্র ছোট্ট চকি বসানো যায়, স্ত্রী ও মেয়ে ঘুমান।

বিছানায় ভালো করে বসার সুযোগ নেই। কারণ টিন ও চালের দূরত্ব শুধু মাত্র দুই হাত। ঘরে নেই বিদ্যুৎ। তীব্র গরমে হাত পাখা ভরসা। রাত বিরাতে ঝড়-বৃষ্টি এলে হয় অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়, নতুবা পানিতে ভিজতে হয়।

এভাবে দীর্ঘদিন ধরে সে পরিবারে নিদারুণ কষ্ট করে আসছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত পীর মাহমুদের ছেলে রবিউল করিম।

সরেজমিন গিয়ে রবিউল করিমের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া সামান্য দুই শতক জায়গার ওপর পাটকাঠির একটি ছাপড়া ঘর। পাঠকাঠিতে উঁই পোকা লেগে ভেঙ্গে পড়েছে। হেলে পড়েছে ঘর। ঘরের চালে রয়েছে কয়েকটি টিন। মরিচা পড়ে সেসব টিনের বেশিরভাগ জায়গায় ফুটো হয়ে গেছে।

রবিউল করিমের চার সন্তান। বড় ছেলে মারা গেছেন। মেজ ছেলে এবং ছোট ছেলেও দিনমজুর। তারা দীর্ঘদিন ধরেই আলাদা বসবাস করে আাসছেন।

দিনমজুরি করে কোনোমতে স্ত্রী রওশন আরা ও দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে পেয়ারা খাতুনকে নিয়ে জীবন ধারণ করতে পারলেও ঘরের কষ্টে কাতর রবিউল। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তাদের ব্যবহার করা ছেঁড়া মশারি চেয়ে এনে ঘরের ‘লজ্জা’ ঢাকতে চেয়েছেন মনকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য। রওশন ও পেয়ারার কাপড় পাল্টানোর সময় অন্যের বাড়িতে যেতে হয়।

রবিউরের পরিবারের এমন করুণ অবস্থা দেখেও মন গলেনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা বিত্তশালীদের। একটি ঘরের জন্য বহুবার ঘুরেছেন সবার কাছে। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি অসহায় এই পরিবারটির ভাগ্যে।

কাতর কন্ঠে রওশন আরা যুগান্তরকে বলেন, ‘একবেলা না খেলেও পেটের ক্ষুধা সহ্য করা যায়। কিন্তু আমাদের ঘরের যে অবস্থা এই কষ্ট সহ্য করি কীভাবে। ঝড় বৃষ্টি এলে অন্যের বাড়িতে যেয়ে আশ্রয় নিতে হয়। আর রাতে হলে বিপদের সীমা থাকে না। শুধু কী তাই, মেয়ে বড় হয়েছে। জামা কাপড় পাল্টানোর জন্য অন্যের বাড়িতে যেতে হয়। এর চেয়ে আল্লাহ্ আমাদের তুলে নিলেই তো পারে! আর কষ্ট সহ্য হয় না!

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাইকোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুরু যুগান্তরকে বলেন, পরিবারটি খুবই অসহায়। এর আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের উচিত ছিল কিছু একটা করার। তবে যেহেতু বিষয়টা জানলাম, আমি অবশ্যই তাদের কষ্ট লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈকত ইসলাম যুগান্তরকে জানান, জমি আছে ঘর নেই এই প্রকল্পটি এখন বন্ধ আছে। বর্তমানে ভূমিহীনদের জন্য ঘর করে দেওয়া হচ্ছে। তবে অসহায় ওই পরিবারটির ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে যে কোনো একটা ব্যবস্থা করব। -সমকাল