ফুলবাড়ীতে টেনিশিয়ান ছাড়ায় প্যাথলোজি পরিক্ষা, প্রতারিত হচ্ছে সাধারন মানুষ

ফুলবাড়ীতে টেনিশিয়ান ছাড়ায় প্যাথলোজি পরিক্ষা, প্রতারিত হচ্ছে সাধারন মানুষ

দিনাজপুর

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে টেনিশিয়া ছাড়ায় চলছে প্যাথলোজিক্যাল পরিক্ষা, প্রতারীত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

সরকারী অনুমতি ছাড়ায় গড়ে উঠেছে একাধিক অবৈধ্য ডায়াগনিস্টিক সেন্টার। অনেক ডায়াগনিস্টিকসেন্টারের অনুমতি থাকলেও, অধিকাংশ সেন্টারে নেই কোন টেকনিশিয়ান ও রেডিওলোজি বা রেডিও গ্রাফার, কোন কোন ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে প্যাথলোজিক্যাল পরিক্ষার জন্য মেডিকেল টেকনোলোজি ল্যাব (এম টি ল্যাব) থাকলেও, নেই প্যাথলোজিক্যাল পরিক্ষক প্যাথলোজিষ্ট, অধিকাংশ এক্স-রে সেন্টারে নেই রেডিওলোজি বা রেডিও গ্রাফার, হাতে গোনা কয়েকটিতে রেডিও গ্রাফার থাকলেও নেই এক্স-রে পরিক্ষক রেডিওলোজিষ্ট। ফলে প্যাথলোজি ও এক্স-রে রিপোট তৈরি করছেন প্যাথলোজিতে কাজ করা কর্মচারীরা, এতেকরে প্যাথলোজিক্যাল পরিক্ষা ও এক্স-রে করতে এসে প্রতিদিনে প্রতারিত হচ্ছে সাধারন জনগণ।

সরেজমিনে দেখা যায় বাসস্টান্ড এলাকায় অবস্থিত মা ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে মশিউর রহমান নামে একজন মেডিকেল টেকনোলোজি ল্যাব (এম টি ল্যাব) রয়েছে, কিন্তু এক্স-রে করার জন্য নেই কোন রেডিও গ্রাফার বা রেডিওলোজি নাই, সেখানে এক্স-রে করেন ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক শাহিনুর ইসলাম ও ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের কর্মচারী তপন কুমার, ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক শাহিনুর ইসলাম বলেন তিনিদেখে শিখেছেন এক্স-ওে করা।

একই অবস্থা নর্থ পয়েন্টে ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের, সেখানে হিজল আহম্মেদ নামে একজন এমটি ল্যাব রয়েছে, কিন্তু সেখানেও কোন রেডিও গ্রাফার নাই, সেখানে এক্স-রে করেন পর্থ পয়েন্ট ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম, তিনিও দেখে শিখেছেন বলে জানান, গ্রীন ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে গিয়ে দেখা যায় সেখানে কোন কেটনিশিয়ান নাই, তারা পাশের ডায়াগনিস্টিক সেন্টার থেকে পরিক্ষা করে নেন বলে জানান। একই অবস্থা অনান্য ডায়াগনিস্টিক সেন্টার গুলোর।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে কয়েকজন চিকিৎসক বলেন ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের দেয়া প্যাথলোজিক্যাল পরিক্ষার উপর ভিত্তিকরে রোগীর ব্যবস্থাপত্র তৈরী করা হয়, কিন্তু ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের পরিক্ষার ফলাফলা ভুল হওয়ায় অনেক রোগী ভূল চিকিৎসার সম্মুখীহয, এতেকরে প্রাণঘাতিতে পড়ে ওই ভুক্তভুগী রোগীর।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মশিউর রহমান বলেন প্যাথলোজিক্যাল পরিক্ষার নামে ভূল পরিক্ষা হয়ে গেলে রোগী বড় রকমের শিকার হতে পারে, তিনি বলেন টেকনিশিয়ান ছাড়ায় যারা ডায়াগনিস্টিক সেন্টার পরিচালনা করছে, তাদের সরকারী অনুমতি বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অহিত করা হলে বলে জানান।

এদিকে সরকারী তালিকা অনুযায়ী, টিএম হেলথ কেয়ার, গ্রীন ডায়াগনিস্টিক, মা ডায়াগনিস্টিক, মর্ডান ডায়াগনিস্টিক, নাজমা প্যাথলোজি, নর্থ পয়েন্টে ডায়াগনিস্টিক, ওয়ান ডায়াগনিস্টিক, ফুলবাড়ী ডিজিটাল ডায়াগনিস্টিক, সরকার প্যাথলোজি নামে ৯টি ডায়াগনিস্টিক সেন্টার ও টি এম হেলথ কেয়ার নামে একটি ক্লিনিক থাকলেও ফুলবাড়ী শহরে গড়ে উঠেছে। ১২টি ডায়াগনিস্টিক সেন্টার। সরকারী অনুমোদন না পাওয়া ফুলবাড়ী ডায়াবেটিস এন্ড হাইপারটেনশন কেয়ার সেন্টার , ফুলবাড়ী আইডিয়াল ডায়াগনিস্টিক সেন্টার ও সাদিয়া ডায়াগনিস্টিক সেন্টার দিধারছে ব্যবসা করছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়ী ডায়বেটিস এন্ড হাইপার টেনশন কেয়ার এর পরিচালক ডাক্তার নুরল ইসলাম বলেন সরকারী অনুমতি প্রকিয়াধীন রয়েছে।

এদিকে সারাদেশে অবৈধ্য ডায়াগনিস্টিক সেন্টার ও অবৈধ্য ক্লিনিক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে বন্ধ করা হলেও, সেই অভিযানে বন্ধ হয়নি ফুলবাড়ীর অবৈধ্য ডায়াগনিস্টিক সেন্টার। গতকাল বিকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান শুরু হলে, শহরে গড়ে উঠা ফুলবাড়ী ডায়াবেটিস এন্ড হাইপারটেনশন কেয়ার সেন্টার নামে ডায়াগনিস্টিক ও আইডিয়াল ডায়গনিস্টিক সেন্টার তড়িঘড়ি করে বন্ধ করে চলে যায়, সাদিয়া ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে যাননি ভ্রাম্যমান আদালত। ভ্রাম্যমান আদালত টেকনিশিয়া ছাড়ায় চলা ফুলবাড়ী গ্রীন ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের এক হাজার টাকা, ফুলবাড়ী ডিজিটাল ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের তিন হাজার টাকা ও সরকার প্যাথলোজিক্যাল সেন্টারের তিন হাজার টাকা জরিমানা করে শেষ হয়ে যায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেড সহকারী কমিশনার ভূমি শামিমা আক্তার জাহান বলেন, পরবর্তিতে তাদের ওই ডায়াগনিস্টিক সেন্টার গুলোতে আবারো অভিযান চালাবেন। অপরদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মশিউর রহমান বলেন সরকারের অনুমতি না পাওয়া ডায়াগনিস্টিক সেন্টারের কার্য্যক্রম বন্ধ করার জন্য তারা পত্র দিবেন, এর পরেও কার্য্যক্রম চললে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।