পঞ্চগড়ে একটি নরমাল ডেলিভারী সেন্টার ও তিনটি ক্লিনিক বন্ধ ঘোষণা

পঞ্চগড়ে একটি নরমাল ডেলিভারী সেন্টার ও তিনটি ক্লিনিক বন্ধ ঘোষণা

রংপুর

পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ পঞ্চগড়ে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযানে একটি নরমাল ডেলিভারি কেন্দ্রসহ তিনটি ক্লিনিক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে নতুন আর কোন রোগী ভর্তি না করাতে নির্দেশ দেওয়া হয় ক্লিনিক মালিকদের। ভর্তিকৃত রোগীদের তিনদিনের মধ্যে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা বলেন পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল হাসান।

মঙ্গলবার দুপুরে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নিবন্ধন না থাকায় জেলা শহরের নরমাল ডেলিভারি সেন্টার, রওশন ক্লিনিক এন্ড জেনারেল হাসপাতাল, আদর্শ ক্লিনিক ও নিউ আদর্শ হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়াও দুটি ক্লিনিকে অবৈধভাবে প্যাথলজী সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় অভিযানে।

অভিযানের সময় ক্লিনিকগুলোর নিবন্ধন যাচাই, অপারেশন থিয়েটার সহ ক্লিনিকের পরিবেশ পর্যবেক্ষন করে অসোন্তষ প্রকাশ করেন সিভিল সার্জন। সেই সাথে ক্লিনিকে কর্মরত নার্স ও কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা যাচাই করা হয়। তবে কোন ক্লিনিকেই সার্বক্ষনিক চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। রওশন ক্লিনিক এন্ড জেনারেল হাসপাতাল এবং সিটি জেনারেল হাসপাতাল নামে দুটি ক্লিনিকে লাইসেন্স না নিয়ে অবৈধভাবে প্যাথলজী সেবা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জেলা শহরের একমাত্র নরমাল ডেলিভারি সেন্টার পরিদর্শন করে নিবন্ধন না থাকায় তাৎক্ষনিক বন্ধ করা হয়েছে।

এ সময় জেলা শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার নিউ আদর্শ হাসপাতাল এবং আদর্শ ক্লিনিক দুটির নিবন্ধন না থাকায় বন্ধ করা হয়েছে। তবে সিজারিয়ান রোগী থাকায় মালিকদের অনুরোধে নিউ আদর্শ হাসপাতালকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে এবং আদর্শ ক্লিনিককে তিনদিনের সময় বেধে দেয়া হয়েছে রোগীর ছাড়পত্র দেয়ার জন্য। তবে নতুন কোন রোগী ভর্তি না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়াও অভিযানে জেলা শহরের আইডিয়াল ক্লিনিকের নিবন্ধন না থাকায় এক মাসের মধ্যে নিবন্ধন করার নির্দেশ দেন সিভিল সার্জন।

সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল হাসান জানান স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ আমরা আজকে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধন যাচাই করে অভিযান পরিচালনা করেছি। কিছু ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিয়মিত নজরদারির মধ্যে রাখা হবে ক্লিনিকগুলোকে। তবে কোন ক্লিনিকেই সার্বক্ষনিক চিকিৎসক, পরিস্কার পরিছন্নতা, দক্ষ জনবল নেই। পরবর্তিতে এই বিষয়গুলো নিয়ে আবারও অভিযান চালানো হবে।

অভিযানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ার হোসেন, পঞ্চগড় সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফরোজা বেগম রীনা, সদর থানা পুলিশ সদস্য সহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা উপস্থিত ছিলেন।