জয়পুরহাটের কালাইয়ে প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে স্ত্রী হত্যা, স্বামী-ছেলে কারাগারে

জয়পুরহাটের কালাইয়ে প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে স্ত্রী হত্যা, স্বামী-ছেলে কারাগারে

রাজশাহী

জয়পুরহাটের কালাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিবেশীকে ফাঁসাতে গৃহবধূ শিপন আক্তারকে (৪৫) গলা কেটে হত্যা করাড় কথা স্বীকার করেছেন ঘাতক স্বামী ও তার সন্তান।

রোববার বিকেলে জয়পুরহাটের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেস্ট আতিকুর রহমানের আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন পিতা-পুত্র।

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গৃহবধূকে হত্যার ঘটনায় ঘাতক স্বামী কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের দুধাইল-নয়াপারা গ্রামের মৃত আলেক উদ্দিন সরকারের ছেলে তোজাম হোসেন সরকার (৫২) এবং তার বড় ছেলে শিহাব উদ্দিন (২০)।

তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহবধূর স্বামী ও সন্তানসহ বেশ কয়েকজনকে থানায় নিয়ে এসেছিল পুলিশ। কিন্তু পরবর্তীতে পিতা-পুত্র হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলে অন্যদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর ভাই শাহজাহান আলী হয়ে বাদী পিতা-পুত্রকে আসামি করে কালাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

এর আগে গত শুক্রবার দিবাগত রাতে দুধাইল-নয়াড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে খুন হন গৃহবধূ শিপন আক্তার। শনিবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পূর্ব শত্রুতার জেরে ওই গৃহবধূকে দূর্বৃত্তরা হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন তার স্বামী-সন্তান। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাঠে নামেন সিআইডি ও ডিবিসহ পুলিশের একাধিক টিম।

গৃহবধূর স্বজন, প্রতিবেশী ও পুলিশের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৭/৮ বছর পূর্বে প্রতিবেশী আয়নাল হকের ছেলে আহসানের কাছ থেকে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন নিহত গৃহবধূর স্বামী তোজাম হোসেন সরকার। কিন্তু এখনো ওই জমির দলিল হয়নি। বর্তমানে জমির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রেতা সেই জমির দলিল করে দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হয়।

জমি উদ্ধার এবং প্রতিবেশীসহ আরও কয়েকজনকে ফাঁসাতে গৃহবধূকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তার স্বামী ও সন্তান। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে বাবা ও ছেলে মিলে গৃহবধূকে চাকু দিয়ে জবাই করে হত্যা করার পর ঘরের মেঝেতে মরদেহ ফেলে রাখেন। এরপর তারা পুলিশে খবর দিলে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতের ভাই ও মামলার বাদী শাহজাহান আলী বলেন, প্রথম থেকেই পুরো পরিবারের সন্দেহ ছিল তাদের উপর। তার বাবা যেমন চতুর তেমনি চতুর ছিল ছেলেটিও। জমি নিয়ে প্রতিবেশীদের ফাঁসাতেই পিতা-পুত্র মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ওদের দু’জনের কঠিন শাস্তি দাবি করছি।

কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দী জানান, পিতা-পুত্র মিলে গৃহবধূকে হত্যা করেছে বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে। রোববার বিকেলে তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করার জন্য চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেস্ট আদালতে হাজির করা হয়েছে।