বিরামপুরে গরু ব্যবসায়ীকে হত্যা করে মাটি চাপা, প্রধান আসামি আটক

বিরামপুরে গরু ব্যবসায়ীকে হত্যা করে মাটি চাপা, প্রধান আসামি আটক

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের বিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গরু ব্যবসায়ী খাদেমুল ইসলামকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মাটি খুঁড়ে লাশ পুঁতে রাখেন বলে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছেন এ মামলায় আটক প্রধান আসামি।

শনিবার দুপুরে আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে হত্যার দায়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি।

আটক ওই আসামির নাম সায়েম আলী ওরফে শাহিন আলী (৩৫)। তিনি পৌর শহরের পূর্বপাড়া এলাকার মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে।

বিরামপুর থানার ওসি সুমন কুমার মহন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জবানবন্দিতে শাহিন বলেন, চলতি মাসের ১৭ তারিখ রাতে খাদেমুল বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় শাহিন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। খাদেমুল বাড়িতে প্রবেশের সময় পাশ থেকে শাহিন একটি ইটের বড় টুকরো দিয়ে সজোরে তার পিঠে আঘাত করেন।

শাহিন আরও বলেন, আচমকা আঘাতে খাদেমুল অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় খাদেমুলের কাছে থাকা গামছা তিন টুকরো করে তার হাত-পা বেঁধে ফেলেন এবং শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ওই বাড়িতে থাকা একটি লোহার শাবল দিয়ে মাটি খুঁড়ে খাদেমুলকে পুঁতে রেখে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

আদালতে শাহিন বলেন, বিরামপুর পূর্বপাড়া এলাকায় দুজনেরই বাড়ি। শাহিনের বাড়ির সামনে নিহত খাদেমুলের দুই শতাংশ জমি আছে। ওই জমিটির মালিকানা নিয়ে আদালতে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মামলা চলছিল। সম্প্রতি ওই জমিটি খাদেমুল স্থানীয় অন্য এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জমিটি অন্য কেউ নিলে শাহিনের বাড়িতে ঢোকা বা বের হওয়ার আর রাস্তা থাকবে না ভেবে খাদেমুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।

পুলিশ জানায়, নিহতের ছেলে রায়হান আলী তার বাবা নিখোঁজ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করলে পুলিশ তদন্তে নামে। এক পর্যায়ে গত ২৪ মে নিহতের বাড়িতে পুলিশের একটি দল তদন্তে গেলে বাড়ির ভেতরে টিউবওয়েলের পানি যাওয়া নালার পাশে মাটিতে পুঁতে রাখা অবস্থায় খাদেমুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই দিনই নিহতের মেয়ে জেসমিন আক্তার বাদী হয়ে বাবাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘটনার মূল আসামি সায়েম আলী ওরফে শাহিন আলীকে আটক করে। শাহিন আলীর দেওয়া তথ্য অনুসারে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ইট, মাটি খোঁড়ার কাজে ব্যবহৃত শাবল ও নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়। – সমকাল