পঞ্চগড়ে চা বাগানে মাল্টা চাষের পর ব্লাক রাইস ধান চাষ করে আলোচনায়

পঞ্চগড়ে চা বাগানে মাল্টা চাষের পর ব্লাক রাইস ধান চাষ করে আলোচনায়

রংপুর

পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ ব্লাক রাইস বা কালো ধান। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ধানের আবাদ হলেও বাংলাদেশে খুব কম সংখ্যক জমিতে এই ধানের চাষ হয়। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় এই ধানের চাল মানবদেহের জন্য উপকারি। রোগ প্রতিরোধি হওয়ায় এই জাতের চালের অনেক চাহিদা রয়েছে। পঞ্চগড় জেলায় সর্ব প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে এই ধান চাষ করেছেন তেঁতুলিয়া উপজেলার সাদেকুল ইসলাম সুষম নামের এক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা।

করোনা কালীন সময়ে বাড়িতে অবসর সময় ইউটিউবে ব্লাক রাইস জাতের ধান চাষ দেখে অনুপ্রাণিত হন তিনি। গাজীপুর থেকে ব্লাক রাইস ধানের বীজ এনে বাড়ির পাশে দুই বিঘা জমিতে রোপন করে সফলতা পেয়েছেন এই উদ্যোক্তা। এই ধান জমিতে পেকে গেছে। দু’চার দিনের মধ্যে তিনি নতুন প্রজাতির এই ধান কাটবেন। এই ধানের ফলনও বেশ ভাল বলে জানিয়েছেন তিনি। আর সুষমের নতুন প্রজাতির ধান চাষের খবরে ধানক্ষেত দেখতে ছুটে যাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। আগামী মৌসূমে তারাও এই জাতের ধান চাষের আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলা সদর হতে ১৫ কিলোমিটার দুরে সীমান্তবর্তী গ্রাম ইসলামবাগ। গ্রামের দুই দিক ভারতের সীমান্তের কাঁটা তারা দ্বারা বেষ্টিত একটি প্রত্যন্ত গ্রামের কয়েকটি বাড়ি পার হলেই যে কারো দৃষ্টি পড়বে বিশাল ধান ক্ষেতের। সেই ধান খেতের মাঝখানে শোভা পাচ্ছে ব্লাক রাইস জাতের কালো রংয়ের ধান। পরিক্ষামূলক ভাবে প্রথম বারের মতো প্রায় দুই বিঘা জমিতে এ ধানের চাষ করেছেন ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার কামালের ছেলে সাদেকুল ইসলাম সুষম। সুষম ঢাকা কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। করোনাকালীন সময়ে তিনি ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে আসেন। অবসর সময়ে ইউটিউবে ব্লাক রাইস জাতের প্রামান্যচিত্র দেখে অনুপ্রানিত হন এ ধান চাষে।

পরে তিনি গাজীপুর থেকে ৫শ টাকা দর কয়েক ব্লাক রাইস জাতের তিন প্রজাতির ধানের বীজ সংগ্রহ করে তার বাবার দুই বিঘা জমিতে ব্লাক রাইস জাতের ধানের চাষ করেন। গ্রামে বাড়ীর পাশে জমিতে গত জানুয়ারিতে এই ধানের বীজ বপন করেন তিনি। সেখানে থেকে চারা তুলে জমিতে রোপন করেন তিনি। প্রথম বারেই এ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন সুষম।

ইতোমধ্যে পাকা ধানে আগামী মৌসূম থেকে বাণিজ্যিকভাবে এই ধানের চাষ করতে অনেক কৃষক বীজের জন্য আগাম টাকা দিয়ে রাখছেন। সুষম তার ক্ষেতের ধান কেটে বীজ রাখার পর বাকি ধান মাড়াই করে ঢেকি ছাটাই চাল করে বিভিন্ন জেলার মানুষের কাছে বিক্রি করার কথা ভাবছেন। ফেসবুকে প্রচারের পর ইতোমধ্যে বিভিন্ন জনের কাছে অর্ডারও পেয়েছেন। এর আগে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সুষম সমতলের চা বাগানে দ্বিতীয় ফসল হিসাবে মাল্টার চাষ বেশ সফল হয়েছেন। তার দেখাদেখি অনেক কৃষক এখন চা বাগানে মাল্টা চাষ শুরু করেছেন।

এবিষয়ে তরুন কৃষি উদ্যােক্তা সাদেকুল ইসলাম সুষম বলেন, করোনাকালীন সময়ে আমি যখন বাড়িতে বেকার সময় কর করছিলাম তখন হঠাৎ ইউটিউবে আমি ব্লাক রাইস জাতের প্রামাম্যচিত্র দেখে অনুপ্রাণিত হই। পরে গাজীপুর থেকে বীজ সংগ্রহ করে দুই বিঘা জমিতে এ ধানের চাষ করি। দেশী ধানের মতোই একই প্রক্রিয়ায় এ ধান চাষ করা যায়। বাজারে এই ধানের চালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। দেশী ধান চাষের চেয়ে এ জাতের ধান চাষে বেশি লাভ পাওয়া যাবে বলে আমি আশা করছি। আগামীতে আমি বানিজ্যিকভাবে এই ধানের চাষ করবো। এছাড়া স্থানীয় অনেক চাষি আমার কাছ থেকে বীজ চেয়েছেন। আগামী মৌসূমে আমি ছাড়াও অনেক কৃষক এই জাতের ধান চাষ করবে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ব্লাক রাইস জাতের ধান অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ধান। রোগ প্রতিরোধী এ ধানের চালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তেঁতুলিয়া তথা পঞ্চগড় জেলায় প্রথম ব্লাক রাইস ধানের চাষ করে সফলতা পেয়েছেন সাদেকুল ইসলাম সুষম নামের এই তরুন উদ্যেক্তা। আমরা কৃষি বিভাগ তার পাশে আছি। আমরা তাকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করছি এবং এই ধান চাষে কৃষকরা যদি উদ্যোাগ নেয় তাহলে আমরা সব ধরণের সহযোগিতা করে কৃষকদের পাশে থাকবো।