সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি কমলেও বেড়েছে ভাঙন

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি কমলেও বেড়েছে ভাঙন

রাজশাহী

যমুনার পানি কিছুটা কমার সঙ্গে সঙ্গে সিরাজগঞ্জের তিনটি উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় শুরু হয়েছে ভাঙন। সম্প্রতি যমুনার ভাঙনে নদীগর্ভে চলে গেছে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি। এতে খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে অসহনীয় ও বিপদগ্রস্ত।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর ডান তীরে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া বাঁধ ও শাহজাদপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন এবং বাম তীরের চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এ ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কাজ শুরু করলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে এখনো কেউ না দাঁড়ানোয় হতাশ হয়ে পড়ছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। ফলে শঙ্কার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে তারা।

স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে শাহজাদপুর উপজেলার খুকনী ইউনিয়নের আরকান্দি ও ঘাটাবাড়ি, জালালপুর ইউনিয়নের জালালপুর, পাকুরতলা ও ভেকা এবং কৈজুরী ইউনিয়নের হাটপাচিল ও শরীফ মোড় এলাকায় ভঙনে অন্তত অর্ধশত ঘর-বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

শাহজাদপুরের জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত বেশ কিছু পরিবার খোলা স্থানে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

কৈজুরি ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খোকন মাস্টার বলেন, ইউনিয়নের পাচিল এলাকায় যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণকাজে গাফিলতির কারণে এ বছর গ্রামের মানুষ নদীভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়েছে। ঠিকাদাররা সময়মতো বস্তা ফেললে এ ক্ষতি হতো না বলেও মনে করেন তিনি।

চৌহালীর বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম মোল্লা বলেন, যমুনা নদীর বাম তীরে সিরাজগঞ্জের সীমান্তবর্তী চৌহালী উপজেলার সর্বদক্ষিণে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চরসলিমাবাদ, চরবিন্নানই ও ভূতেরবাড়ি এলাকায় সারা বছরই নদীভাঙন ছিল। আগে অন্তত দেড় শতাধিক বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। সম্প্রতি ভাঙনে বিলীন হয়েছে আরও দেড় শতাধিক বসতবাড়ি। দুটি স্থানের ভাঙন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভূতেরবাড়ি এলাকায় এখনো তীব্র ভাঙন চলছে।

এদিকে কাজিপুর উপজেলার যমুনা নদীর চরাঞ্চলের নাটুয়ারপাড়া রক্ষা বাঁধেও ভাঙন দেখা দেওয়ায় সেখানে সংস্কারকাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ইতোমধ্যে ওই বাঁধে থাকা বেশ কয়েকটি বিদ্যুতের খুঁটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন বলেন, সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ এলাকসহ সব এলাকাতেই যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে অনেক জায়গায় নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোয় ৩০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এ ছাড়া আরও ৯৬ হাজার জিও ব্যাগের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যা আগামী ৩১ মের মধ্যে শেষ হবে। তারপর নতুন করে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হবে।

সিরাজগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, নদীতে পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে কিছু জায়গা নদীভাঙন হচ্ছে। ভাঙনের স্থানগুলোয় সংস্কারকাজ চলছে। আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।