আক্রমণ হলে পাল্টা আক্রমণের হুঁশিয়ারি গয়েশ্বরের

আক্রমণ হলে পাল্টা আক্রমণের হুঁশিয়ারি গয়েশ্বরের

জাতীয়

আক্রমণ হলে পাল্টা আক্রমন ছাড়া বিকল্প পথ খোলা নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। তারা বলেন, ছাত্রদলের নারীনেত্রীসহ নেতাকর্মীদের ওপর যে হামলা হয়েছে, এটা আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে হয়েছে। এখন আক্রমন হলে পাল্টা আক্রমন করতে হবে-এর বিকল্প কোনো পথ নেই।

আজ শনিবার (২৮ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের নবঘোষিত কমিটির প্রথম সমাবেশে বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন।

গতকাল শুক্রবার সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে সভাপতি ও মোনায়েম মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করে জাতীয়তাবাদী যুবদলের আট সদস্যের আশিংক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।

‘বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কটুক্তি ও প্রচ্ছন্ন হত্যার হুমকি এবং ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাসী হামলা’র প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নবঘোষিত যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে ও যুগ্মসম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন ও গোলাম মাওলা শাহীনের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, সাইফুল আলম নিরব, আমিনুল হক, রফিকুল আলম মজনু, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না, সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, মহানগরের এনামুল হক এনাম প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতার নির্দেশে-ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগ হামলা করেছে বলে সমাবেশে অভিযোগ করেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ছাত্রলীগ করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলাম। দেশের সেরা শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হন। তোমরা কার রক্ত নিচ্ছো? তোমার ভাই অথবা বোনের। তোমরা যাদের নির্দেশে এই হামলা করেছ, তারা শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকার জন্য তোমাদের ব্যবহার করছে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ড. মোশারর বলেন, এই সরকার দুর্বল হয়েছে। এই সরকারকে একটা ধাক্কা দিতে হবে। ছাত্রদল সেই সূচনা করেছে। সরকার পতন, নিরপেক্ষ সরকার, সংসদ বাতিল-এসব ইস্যুতে চলমান আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য দলের নেতাকর্মী, রাজনীতিবিদ ও দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানান ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

যুবদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আক্রমণ হলে পাল্টা আক্রমণ ছাড়া বিকল্পপথ খোলা থাকে না। মার খাওয়া একমাত্র কাজ নয়। রক্ত দিয়ে ত্যাগীদের খাতায় নাম লিখালেই চলবে না। রক্ত দিতে হবে, আবার প্রয়োজনে যারা জনগণের বিপক্ষে কথা বলে, আক্রমণ করে তাদের রক্ত নিতেও হবে। একটি মাত্র কথা, বাধা আসলে পাল্টা বাধা দিতে হবে, আক্রমণ হলে পাল্টা আক্রমণ করতে হবে- এভাবেই আক্রমণকারীদের মোকাবেলা করতে হবে।

আমান উল্লাহ আমান বলেন, ছাত্রদলের বোনদের ওপর যেভাবে ছাত্রলীগ হামলা করেছে, এটা প্রধানমন্ত্রী দেখেছেন। তিনিও তো একজন নারী। এই বোনগুলো যদি তার মেয়ে হতো তাহলে তিনি কি করতেন? ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর চাপাতি, রামদা, লাঠিসোটা ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ হামলা করা হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশসানের ভূমিকা কোথায়? অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহাবস্থান নিশ্চিত করুন।

আব্দুস সালাম বলেন, যে হামলা হয়েছে- এটা কেবল ছাত্রদলের ওপর হামলা নয়, এটা জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপর হামলা।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, আমাদের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে, এরপর আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি না। যেভাবে আমাদের ছাত্রদলের ভাই-বোনদের শরীর থেকে রক্ত ঝড়ানো হয়েছে, আমরা প্রতি ফোটা রক্তের বদলা নেব। হয় শহীদ হবো, না হয় এই সরকারের পতন ঘটাবো।

আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, আগামী দিনে যুবদল গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেবেন। যেখানে জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপর আঘাত আসবে সেখানেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।