পলাশবাড়ীতে পৌরসভার রাজস্ব আদায়ে বাঁধা প্রদানসহ পৌরসভাকে অবমাননা প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলন

পলাশবাড়ীতে পৌরসভার রাজস্ব আদায়ে বাঁধা প্রদানসহ পৌরসভাকে অবমাননা প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলন

রংপুর

সাংবাদিক সম্মেলনঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানা পুলিশ কর্তৃক পৌরসভার রাজস্ব আদায়ে বাঁধা প্রদান পূর্বক পৌরসভা পরিচালনায় সহযোগিতা এবং পৌরসভাকে অবমাননা প্রসঙ্গে এক জনাকীর্ণ সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল বুধবার (২৫ মে) দুপুরে পলাশবাড়ী পৌরসভা কার্যালয়ে পৌর মেয়র গোলাম সরোয়ার প্রধান বিপ্লব তাঁর লিখিত বক্তব্যে বলেন, স্থানীয় সরকারে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পৌরসভার নাগরিককে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৫০ অনুসারে প্রায় ২০ ধরনের সেবা প্রদান করে থাকে। উক্ত সেবা প্রদান কার্যক্রম, অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, ড্রেনেজ ব্যবস্থা সম্পর্কিত ব্যয়, পৌর পরিষদের সম্মানি ভাতা, কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, জ্বালানি, আপ্যায়ন, দরিদ্র সহায়তাসহ বিভিন্ন প্রকার ব্যয় পৌরসভার নিজস্ব রাজস্ব ব্যয় দ্বারা নির্বাহ হয়।

উপরোক্ত ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকার পৌর পরিষদ ও পৌরসভাকে রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা প্রদান করেছেন তা হলো- পৌরসভা কার্য বিধিমালা-২০১২ এর ৪ ধারায় বর্ণিত কর, উপকর, রেইট, টোল এবং ফি আরোপের প্রস্তাব ও নির্ধারণ করা হয়। পৌরসভা আইন-২০০৯ এর তৃতীয় তফশীলে বর্ণিত ক্রমিক নং-৭ এর টোল জাতীয় ফিস ও ১৩ মোটরগাড়ী ও নৌকা ব্যতিত অন্যান্য যানবাহনের উপর করসহ অন্যান্য কর, উপকর, রেইট, টোল ফিস আরোপ করা হয়।

তিনি আরো বলেন, উল্লেখিত রাজস্ব খাতের আদায়ের মধ্যে পৌর এলাকায় চলাচলরত সিএনজি, অটো, টেম্পু, ভটভটি, টলি ইত্যাদি টোল আদায়ের গত ০৬/০৪/২২ইং তারিখে অনুষ্ঠিত পৌর পরিষদের মাসিক সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ইজারা প্রদান করা হয়। কিন্তু টোল আদায় করতে গিয়ে ইজারাদারের আদায়কারীগণ প্রায়ই পলাশবাড়ী থানা পুলিশ কর্তৃক হেনস্তার শিকার হচ্ছেন।

এমনকি গত ঈদুল ফিতরের কয়েকদিন আগে এবং গত ২৪-০৫-২২ইং তারিখে ইজারাদারের দু’জন আদায়কারীকে থানায় আটক করে নিয়ে যায়। এছাড়াও গত ২০২১ সনের মে মাসে টোল আদায়ের যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষামূলক টোল আদায়ের জন্য নিয়োজিত ৩ জন কর্মীকে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় আদালতে সোপর্দ করে।

এমতাবস্থায় পৌরসভার রাজস্ব আদায় ও পৌরসভা পরিচালনায় চরম বাঁধার সম্মুখীন হচ্ছি। অথচ পৌরসভা কর আরোপ ও আদায় পদ্ধতি বিধিমালা-২০১৩ এর ৫০ ধারায় সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে টোল আদায়ের ক্ষেত্রে বাঁধার সম্মুখীন হলে প্রয়োজনে পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তা গ্রহণ করা যাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় পলাশবাড়ী থানা পুলিশ উল্টো বাঁধা প্রদান করছে।

এতে পৌরসভা আইন-২০০৯ এর ১১৩ ধারায় প্রত্যেক পৌরসভা এলাকার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়েছে পৌরসভার বিধিবিধান বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদানের জন্য। পলাশবাড়ী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য পৌরসভার কর্মকান্ডে বাঁধা প্রদান পূর্বক পৌরসভা পরিচালনায় বিঘœ সৃষ্টি ছাড়াও পৌরসভাকে অবমাননা ও আইনের লংঘন করছেন। দেশের অন্যান্য পৌরসভা যদি টোল আদায় করে থাকে। সে ক্ষেত্রে পলাশবাড়ী পৌরসভার টোল আদায় করতে দোষ কোথায়। তাই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মিডিয়াকর্মীদের মাধ্যেমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করছি।

এসময় পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শাহজাহান আলম রিপন, প্যানেল মেয়র আব্দুস সোবাহান, প্যানেল মেয়র শাহিনুর আক্তার, সংরক্ষিত কাউন্সিলর সাজেদা বেগম, শিরিন আকতার, পৌর কাউন্সিল’র মতিয়ার রহমান, রবিউল ইসলাম সুমন, মঞ্জু তালুকদার ও লিটন মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।