সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য প্রথমবারের মতো চাকরি মেলা

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য প্রথমবারের মতো চাকরি মেলা

জাতীয়

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের দিকে নির্দেশনায় দুই দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় দেশের স্বনামধন্য ৬০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার (২৪ মে) ঢাকা সেনানিবাসে দুই দিনব্যাপী এ মেলা শুরু হয়। মেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। আরও উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত ও অবসরগামী সেনাসদস্যরা ও চাকরিরত সেনাসদস্যদের পরিবারের সদস্যরা।

মঙ্গলবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আইএসপিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়, সেনাপ্রধান তার বক্তব্যে মেলায় অংশগ্রহণকারীদের ও অংশগ্রহণ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানান। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়নের জন্য তিনি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তরিকতাকে সাধুবাদ জানান।

সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা তুলনামুলকভাবে কম বয়সে অবসর যান। অনেকেরই কর্মদক্ষতা রয়ে যায়। এ সুদক্ষ জনশক্তিকে সুশীল সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াসে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে বলেও সেনাপ্রধান জানান।

সুদক্ষ, সুশৃংখল ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষিত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রগামী ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এবারের মেলা থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে বিবেচনায় নেওয়া হবে বলেও জানান সেনাপ্রধান।

আইএসপিআর আরও জানায়, সেনাপ্রধান মেলায় আগতদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন এবং বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এছাড়া মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যরা প্রথমবারের মতো এ মেলা আয়োজনের জন্য সেনাবাহিনী প্রধানকে কৃতজ্ঞতা জানায়।

আয়োজিত চাকরি মেলায় নিয়ে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এবং বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা যায়। যা আয়োজকদেরও অনুপ্রাণিত করেছে বলে জানায় আইএসপিআর।

আইএসপিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়, সেনাসদস্যরা পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাকরিকালীন সময়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ যুদ্ধকেন্দ্রিক হলেও সেগুলো শান্তিকালীন সময়ে দেশ ও জাতি গঠনে উপযোগী। সেনাবাহিনী ব্যতীত অন্যান্য ব্যবসায়িক, সামাজিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ক্ষেত্রের জন্য প্রযোজ্য। অনেক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়োজিত থেকে সুনামের সঙ্গে চাকরি করছেন। সেনাসদস্যদের যোগ্যতাকে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ জনবল নিয়োগে সহায়তা করা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই এ চাকরি মেলার মূল উদ্দেশ্য।