নাগেশ্বরীতে বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে গাছের চারা রোপন

নাগেশ্বরীতে বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে গাছের চারা রোপন

রংপুর

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে এক বিদ্যালয়ের মাঠের ১৭ শতক জমি নেট দিয়ে ঘিরে দখল করে গাছের চারা রোপন করেছে একটি পক্ষ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের শিয়ালকান্দা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে। দুই পক্ষের জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয় সেখানে পাকা দোকান ঘর নিমার্ণেরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন পক্ষটি। মাঠের মাঝখানের এই অংশটি দখল হওয়ায় হতভম্ব ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ সচেতন মহল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বিদ্যালয়টি ১৯৯৩ সালে ৯৮ শতক জমির উপর নিয়ে স্থাপিত হয়। স্থাপনকালে প্রতিষ্ঠাতা জমিদাতা মৃত-ফজলুল হক মেম্বার প্রতিবেশী মীর মতিয়ার রহমান নামে একজনের কাছ থেকে ৩২শতক জমি রেওয়াজ বদল করে বিদ্যালটিকে প্রদান করেন। এরমধ্যে ১৫শতক জমি বিদ্যালয়ের নামে লিখে দেয়া হলেও ১৭শতক জমি লিখে দেয়া হয়নি।

এই ১৭শতক জমির বদলী হিসেবে যে জমিটি মতিয়ার রহমান দীর্ঘ ২৭বছর ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন সেই জমিটি গতবছর দখল করে নেয় বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও জমিতাদা মৃত-ফজলুল হকের স্বজনরা। ফলে রেওয়াজ বদলের ১৭ শতক জমি না পেয়ে স্কুল মাঠে অবস্থিত রেজিষ্ট্রি না করে দেয়া ১৭শতক জমি দখলে নেয় মীর মতিয়ার রহমানের ছেলে মীর শাহ আলম। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে স্কুল মাঠে শিশুদের বিনোদন ও খেলাধুলা।

মাঠ দখলকারী মীর শাহ আলম জানান, স্কুলের জমিদাতারা আমার বাবার কাছ থেকে জমি নিয়ে বদলি হিসেবে যে জমি দিয়েছে তা লিখে দেয়নি। ফলে জমিদাতার মৃত্যুর পর তার স্বজনরা সেই জমি দখলে নিয়েছে। এ নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে ধরণা দিয়েও জমি না পেয়ে এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছি।

প্রধান শিক্ষক মুহা. জালাল উদ্দিন সরকার জানান, আমাদের সাথে কোন প্রকার আলোচনা না করেই হঠাৎ করে স্কুল মাঠের জমি নেট দিয়ে ঘেরাও করে নেয় মীর শাহ আলম। সেখানে তারা ৬০টি গাছের চারা রোপন করেছেন। দোকানঘর করার জন্য ইট ফেলে সেখানে ফাউন্ডেশন দেয়ার কার্যক্রম শুরু করেছেন। পরে পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাফিজ আল আসাদ সুমন জানান, একটি পক্ষ উষ্কানী দিয়ে এই কাজটি করেছে। আমরা দ্রুত এর সমাধানের চেষ্টা করছি।

অভিভাবক মো. জাহাঙ্গীর ও আবদুল জব্বার জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও একগুয়েমীর কারণে এই অপ্রীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যারা জমি দখল করে আছেন তারা ১৭শতক জমি পাবেন। তাদেরকে জমি বুঝিয়ে দিলে আজকে এই অবস্থার সৃষ্টি হতো না। আমরা চাই মাঠের পূর্বের পরিবেশ দ্রুত ফিরিয়ে আনা হোক।

শিয়ালকান্দা ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম জানান, স্কুলে গোপনভাবে গভর্ণিং কমিটি গঠন ও ৩ জনকে নিয়োগ দেয়া নিয়ে জমিদাতা ও এলাকাবাসীর মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। সবাই মিলে বসে এটার সমাধান করা দরকার।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আহম্মেদ মাছুম বলেন, বিদ্যালয়টির মাঠ দখল করে ঘর নির্মাণের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে তা বন্ধ করা হয়েছে। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এত বছর পর মাঠের জমি দাবী করার পিছনের কারণ ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে উপজেলা চেয়ারম্যাকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুল আলম জানান, জমির মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত ওই বিদ্যালয়ের সকল প্রকার নিয়োগ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়াও যাতে মাঠের পরিবেশ বিঘ্নিত না হয় সে ব্যাপারে জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে সব ধরণের উদ্যোগ নেয়া হবে।