মিয়ানমার উপকূলে নৌযান ডুবে ১৪ রোহিঙ্গার মৃত্যু, বহু নিখোঁজ

মিয়ানমার উপকূলে নৌযান ডুবে ১৪ রোহিঙ্গার মৃত্যু, বহু নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক

মিয়ানমার উপকূলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বহনকারী একটি নৌযান ডুবে অন্তত ১৪ জন মারা গেছে, নিখোঁজ রয়েছে ৫০ জনেরও বেশি।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রোববার খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে শিশুসহ প্রায় ৯০ জন আরোহী নিয়ে নৌযানটি উল্টে গিয়ে সাগরে ডুবে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের তহবিলে পরিচালিত রেডিও ফ্রি এশিয়া মিয়া্নমারে উপকূলীয় জেলা শ্বে তাং ইয়ানের বাসিন্দাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সাঁতরে তীরে ওঠা ২০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আটক করেছে মিয়ানমারের এরাওয়াদি অঞ্চলের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

এরাওয়াদি টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেঁচে যাওয়া ওই রোহিঙ্গাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯ মে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিটওয়ে থেকে ওই নৌযানযোগ তারা মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল, তারপর দুদিনের মধ্যেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়ে।

এ পর্যন্ত অন্তত ১৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৫০ জনেরও বেশি নিখোঁজ রয়েছেন বলে রেডিও ফ্রি এশিয়া জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই নৌদুর্ঘটনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তার মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মিয়ানমারে এখন মাত্র ৬ লাখের মতো রোহিঙ্গা আছে। সেদেশে মুসলিম এই জনগোষ্ঠীকে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং ২০১৭ সালে সামরিক অভিযানের সময় ‘জাতিগত নির্মূল’ প্রচেষ্টা থেকে রক্ষা পেতে ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এ বছর জানুয়ারি থেকে মের মধ্যে ৬৩০ জন রোহিঙ্গা বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে মিয়ানমার থেকে পালানোর চেষ্টা করেছে যাদের ৬০ শতাংশই নারী ও শিশু।