কুড়িগ্রামে জোড়া খুনের ঘটনায় চলছে তদন্ত

কুড়িগ্রামে জোড়া খুনের ঘটনায় চলছে তদন্ত

রংপুর

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে মা ও শিশু সন্তানকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশ সন্দেহজনক কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। রহস্যজনক এ জোড়া খুনের ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নিহতের বাড়ীতে চলছে স্বজনদের আহাজারী।

খুনের ঘটনার পর শনিবার রাতেই নিহতের বাবা হারুন উর রশীদ অজ্ঞাতনামীয়দের উল্লেখ করে রৌমারী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন জানিয়ে রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোন্তাছির বিল্লাহ জানান, খুনের মোটিভ উদ্ধারে সম্ভাব্য সব ধরণের কৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। আমরা তদন্তের স্বার্থে এই মুহুর্তে কিছু বলতে পারছি না। তবে যত দ্রুত সম্ভব এই ঘটনার রহস্য উন্মাচন করা করা হবে।

এদিকে জোড়া খুনের ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। বিভিন্ন জায়গায় মানুষ জটলা করে হত্যাকান্ডের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করছেন। কেউ কেউ পরকীয়ার বিষয়টি উল্লেখ করলেও পরিবার সেটি উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা বলছেন এমন ধরণের ইঙ্গিত আমরা পাইনি। তবে জন্মের পর শিশুটি দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছিল বলে সবাই জানিয়েছে। এটি হাফসা আক্তারের মনে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ছেলেক হত্যা করে নিজে আত্মহণনের পথ বেচে নিতে পারে। তবে তৃতীয় পক্ষের কেউ হত্যাকান্ডে জড়িত কিনা সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সব মিলিয়ে ৪৮ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও রোমহর্ষক এ হত্যাকান্ডের ব্যাপারে পুলিশ এখনো কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি।

কুড়িগ্রাম মর্গে ময়নাদন্তের পর এখন পর্যন্ত মা ও ছেলের মরদেহ রৌমারীতে পৌঁছেনি। স্বজনরা মরদেহ হস্তান্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন। মরদেহ পেলেই সৎকারের ব্যবস্থা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (২১ মে) ভোরে রৌমারী সদর ইউনিয়নের নতুন বন্দর হাজীপাড়া গ্রামে একটি পুকুর পাড়ে ধানক্ষেতে মা হাফসা আক্তার ও পাঁচ মাসের শিশু হাবীবকে গলাকাটা অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় প্রত্যক্ষদর্শীরা। শিশুটি ঘটনাস্থলেই মারা গেলেও গুরুতর আহত মাকে বাঁচাতে প্রথমে রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সময় পথেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি।