পাবনায় বরাদ্দ পাওয়া ঘরে উঠতে পারছে না ভূমিহীন পরিবার

পাবনায় বরাদ্দ পাওয়া ঘরে উঠতে পারছে না ভূমিহীন পরিবার

রাজশাহী

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় এক ভূমিহীন ও অসহায়ের নামে বরাদ্দ হওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর দখল করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২ শতাংশ জায়গা রেজিস্ট্রিসহ ঘরের কাগজপত্র পেয়েও পরিবারসহ সেখানে উঠতে পারছেন না রহম মোল্লা।

অন্যদিকে দখলকারী ব্যক্তি মকবুল শেখ দাবি করেন, প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ঘর দেওয়া হবে বলে কথা দেওয়া হয়েছিল। সেই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ওই জায়গা থেকে তার ঘর সরিয়ে নেন। কিন্তু বরাদ্দের তালিকায় তার নাম আসেনি। তাই তিনি দখল ছাড়েননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার করমজা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের আফড়া গ্রামে সরকারি জায়গায় ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের চারটি ঘর নির্মাণ করা হয়। এবারের ঈদুল ফিতরে উপহার হিসেবে ঘরগুলো চারটি ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২ শতাংশ জায়গাসহ ঘরের কাগজপত্র ইতিমধ্যেই রেজিস্ট্রি হয়েছে পরিবারগুলোকে।

যে চারটি পরিবার ঘর বরাদ্দ পেয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছে রহম মোল্লার পরিবারও। নিজের কোনো জায়গা-জমি না থাকায় পরিবারসহ রহম মোল্লা আফড়া গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় দোচালা ভাঙা ঘর তুলে বাস করেন।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে ১০ এপ্রিল সারা দেশে ৩৩ হাজার পরিবার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের ঘর পায়। এরই সঙ্গে উপজেলার আফড়া গ্রামের ওই জায়গায় চারটি পরিবারের মধ্যেও ঘর বরাদ্দ হয়। কিন্তু বরাদ্দের তালিকায় নিজের নাম দেখতে না পেয়ে মকবুল শেখ পরিবারের লোকজন নিয়ে একটি ঘর দখল করে নেন। এরপর থেকে তিনি পরিবারসহ সেখানেই বাস করছেন।

তবে স্থানীয় লোকজন ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মকবুল শেখ সরকারি জায়গায় ঘর তুলে বাস করলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি ভূমিহীন নন। উপজেলার আফড়া গ্রামে তার কৃষিজমি রয়েছে। এ ছাড়া তার পরিবার বেশ সচ্ছল হিসেবে এলাকায় পরিচিত। নবনির্মিত এই ঘরের পাশেই রয়েছে মকবুল শেখের ছেলের নির্মাণ করা ৩০ হাত একটি আধা পাকা সুদৃশ্য ঘর। তবে সেই ঘরটিও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায়। এই জমির কিছু অংশ বছরখানেক আগে বাড়িসহ ১৭ লাখ টাকা বিক্রি করেছেন।

বরাদ্দ পাওয়া ভূমিহীন রহম মোল্লা পরিবারসহ ঘরে উঠতে গিয়ে দেখেন তাতে মকবুল শেখের পরিবার বাস করছে। এ সময় মকবুল শেখের পরিবারের লোকজন রহম মোল্লার পরিবারের লোকজনকে গালাগালি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। এরপর থেকে রহম মোল্লা ঘরের দখল পাওয়ার আশায় উপজেলা প্রশাসন, ইউপি চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে ধরনা দিয়ে ফিরছেন।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের মালিক রহম মোল্লা বলেন, আমি খুব দরিদ্র মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর ঘর নিয়্যা ম্যালা স্বপ্ন দেখছিল্যাম। কিন্তু সেই ঘরে মকবুল শেখের লোকজন উঠপ্যার দেয় না। আমরা প্রশাসনের সাহায্য চাই।

এ ব্যাপারে মকবুল শেখের স্ত্রী সাজেদা খাতুন বলেন, ৩০ বছর ধইর‌্যা আমরা এই জায়গায় আছি। আমাগরে কুনু যাওয়ার জায়গা নাই। ঘর দেওয়ার কথা কয়া তারা আমাগরে ঘর ভাঙাইছে। এখন ঘর না দেওয়ায় বাধ্য হয়া এই জায়গায় উঠছি।

সাঁথিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মকবুল শেখ এলাকার একজন সচ্ছল ব্যক্তি। তিনি কোনোভাবেই ঘর পাওয়া যোগ্য নন। বরং তিনি এখনো সরকারি জায়গা দখল করে ঘর তুলে আছেন। মকবুল শেখ জোর করে রহম মোল্লার নামে বরাদ্দ হওয়া ঘর দখল করে আছেন বলে অভিযোগ পেয়েছি। দু-এক দিনের মধ্যেই আমি নিজে গিয়ে রহম আলীকে ঘর বুঝিয়ে দিয়ে আসব।

সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম জামাল আহমেদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা খোজঁখবর নেব। যার নামে ঘর ও জায়গা বরাদ্দ হয়ে গেছে, সেই ব্যক্তিকে ঘরে ওঠানোর ব্যবস্থা করব।