রাজশাহীর বাগমারায় ছাত্রদলের আহ্বায়ক যুবদল কর্মীকে পেটানোর অভিযোগ

রাজশাহীর বাগমারায় ছাত্রদলের আহ্বায়ক যুবদল কর্মীকে পেটানোর অভিযোগ

রাজশাহী

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মহব্বত হোসেন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে নজরুল ইসলাম নামের এক যুবদল কর্মীকে পেটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঐ যুবদল কর্মীকে বাজার থেকে তুলে নিয়ে এসে বেধড়ক পেটানো হয়। সেই মারধরের দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও করা হয়েছে। এ বিষয়ে নির্যাতিত যুবদল কর্মী বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

পিটুনির শিকার যুবদল কর্মী নজরুল ইসলাম বাগমারা উপজেলা যুবদলের আসন্ন সম্মেলনে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী। গত বুধবার বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যুবদলের কমিটি গঠনের জন্য আগ্রহী ব্যক্তিদের ফরম বিতরণ কার্যক্রম শেষ হয়। ঐ বিশৃঙ্খলায় কারা জড়িত, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ঐ পোস্টে মন্তব্য করেছিলেন নজরুল।

প্রত্যক্ষদর্শী ও যুবদলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মহব্বত হোসেন কয়েকজন অনুসারী নিয়ে উপজেলা সদরের ভবানীগঞ্জে আসেন। তিনি ভবানীগঞ্জ কলেজ মোড়ের একটি চায়ের দোকানে বসে অনুসারীদের নিয়ে চা পান করেন। ফেরার পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভবানীগঞ্জ নিউমার্কেটের নিচতলায় যুবদল কর্মী নজরুল ইসলামকে দেখতে পান। এ সময় মহব্বত হোসেন ও তার অনুসারীরা তাকে ধরে ভবানীগঞ্জ-দেউলা সেতুর দক্ষিণ পাশে একটি গ্যারেজের সামনে নিয়ে যান। এরপর ফেসবুকে তিনি কেন মন্তব্য করেছিলেন, সে বিষয়ে কৈফিয়ত চান তারা। একপর্যায়ে তারা নজরুলকে কিল-ঘুষি ও হাতুড়ি দিয়ে পেটানো শুরু করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মারধরের সময় বাসুপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদুল ইসলাম মুঠোফোনে মারপিটের দৃশ্য ভিডিও করেন। একপর্যায়ে তিনি জেলা যুবদলের সদস্যসচিব রেজাউল করিমের কাছে ফোন দিয়ে মারধরের ভিডিও ফেসবুক লাইভে দেবেন কিনা, জানতে চান। এলোপাতাড়ি মারধরে ঐ যুবদল কর্মী মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে ফেলে চলে যান অভিযুক্তরা। পরে ঐ যুবদল কর্মী দলের অন্যদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় রাতেই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মহব্বত হোসেন, সদস্যসচিব উজ্জ্বল হোসেন, ভিডিও ধারণকারী বাসুপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফরিদুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

বাগমারা থানার ওসি মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, এ বিষয়ে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগ তদন্তের জন্য একজন এসআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।