উত্তর কোরিয়ায় ১০ লাখের বেশি কোভিডে আক্রান্তের শঙ্কা

উত্তর কোরিয়ায় ১০ লাখের বেশি কোভিডে আক্রান্তের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক

উত্তর কোরিয়াজুড়ে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে দেশটির নেতা কিম জং উন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং ওষুধ বিতরণে সহায়তা করার জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।

দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, এখন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ‘জ্বরে’ অসুস্থ হয়ে পড়েছে ও প্রায় ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

তবে মৃতদের মধ্যে পরীক্ষায় কতোজনের কোভিড পজিটিভ এসেছিল তা পরিষ্কার হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

রোগী শনাক্তে পরীক্ষার সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় উত্তর কোরিয়া এখন পর্যন্ত যত রোগীর তথ্য দিয়েছে, তা সম্ভবত মোট আক্রান্তের খুব সামান্য অংশ। টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা বিশ্বের মাত্র দুটি দেশের একটি হওয়ায় এবং দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কারণে দেশটির এ প্রাদুর্ভাব হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু নিয়ে আসতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

গত সপ্তাহে প্রথম কোভিড রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই দেশটিজুড়ে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। ভাইরাসটি আরও কিছুদিন আগে থেকেই দেশটিতে ছড়াচ্ছিল বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, রোববার পলিটব্যুরোর একটি জরুরি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন কিম; এ বৈঠকে ওষুধের মজুদ বিতরণে কর্মকর্তারা অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরকে রাজধানী ‘পিয়ংইয়ংয়ে ওষুধ সরবরাহ অবিলম্বে স্থিতিশীল করার’ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

কিম লকডাউন ও কর্মক্ষেত্রে জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ আরোপসহ ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ‘সর্বোচ্চ জরুরি অবস্থা’ জারি করেছেন।

গত বছর বিশ্ব সম্প্রদায় উত্তর কোরিয়াকে লাখ লাখ ডোজ অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও চীনের তৈরি সিনোভ্যাক টিকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু উত্তর কোরিয়া সেসব প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে জানিয়েছিল, তারা ২০২০ সালের জানুয়ারির প্রথম দিকেই সীমান্ত বন্ধ করে দিয়ে কোভিড নিয়ন্ত্রণ করেছে।

উত্তর কোরিয়া সঙ্গে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্থল সীমান্ত আছে। দুটি দেশই করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। চীন এখন তার বৃহত্তম শহরগুলোতে লকডাউন দিয়ে ওমিক্রন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের জন্য সংগ্রাম করছে।

উত্তর কোরিয়া যদি অনুরোধ করে তাহলে পর্যাপ্ত টিকা, স্বাস্থ্যকর্মী ও মেডিকেল সরঞ্জাম দিয়ে সাহায্য করার জন্য তারা প্রস্তুত বলে জানিয়ে রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়া।

দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে থাকা কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবকে শনিবার ‘বড় ধরনের বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেছেন কিম।

সীমান্ত বন্ধ করে রাখায় দেশটির্ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করেছে এবং জরুরি পণ্য আমদানিও হ্রাস পেয়েছে, এতে দেশজুড়ে খাদ্য ঘাটতি চলছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর হিসাব অনুযায়ী, দেশটির আড়াই কোটি লোকের মধ্যে এক কোটি ১০ লাখ অপুষ্টিতে ভুগছে।

এ পরিস্থিতিতে মহামারীর কারণে দেশটিতে খাদ্য উৎপাদন হ্রাস পেলে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।