নাটোর প্রেসক্লাবসহ অর্ধশতাধিক স্থাপনা ভেঙে ফেলা হলো

নাটোর প্রেসক্লাবসহ অর্ধশতাধিক স্থাপনা ভেঙে ফেলা হলো

রাজশাহী

নাটোর প্রেসক্লাব ভবনসহ শহরের অর্ধশতাধিক স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক প্রশস্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সম্পত্তি ও আইন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মিয়া উচ্ছেদ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেন। সোমবার (১৬ মে) সকাল থেকে শহরের কানাইখালী এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

এদিকে প্রেসক্লাব ভবন উচ্ছেদের পর থেকেই নাটোরে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ADVERTISEMENT

নাটোর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাপ্পী লাহিড়ী জানান, প্রেসক্লাবের ভবনের জায়গাটি আরএস রেকর্ড অনুযায়ী পৌরসভার সম্পত্তি। ২০০৭ সালে নাটোর পৌরসভার সঙ্গে নাটোর প্রেসক্লাবের বাৎসরিক ভাড়ার চুক্তিনামায় নিজস্ব অর্থায়নে ভবনটি নির্মাণ করে নাটোর প্রেসক্লাব। ২০১৯ সালে জায়গাটি নিজেদের দাবি করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ পৌরসভাকে বিবাদী করে দায়েরকৃত মামলাটি এখনো চলমান। এ অবস্থায় ১৪ মে বিকেলে ছুটির দিনে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান করে আজ প্রেসক্লাব ভবন ভাঙা হয়েছে। আমাদের মূল্যবান আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি সড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি। এসব সামগ্রী ছাড়াও আধুনিক ভবন ভেঙে আমাদের অন্তত ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

নাটোর প্রেসক্লাবের সভাপতি ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন বলেন, নাটোর প্রেসক্লাব কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান নয়। সরকারের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান। সড়কের যে অংশে রাস্তা ১০০ ফুট প্রশস্ত হবে, সেই অংশে নাটোর প্রেসক্লাবের অবস্থান নয়। ছুটির দিনে হঠাৎ নোটিশ না দিয়ে কিছুদিন সময় দিয়ে প্রেসক্লাব ভবন উচ্ছেদ করা হলে তা শোভন হতো এবং আমরা ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতাম।

নাটোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জানান, ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের বড় হরিশপুর বাইপাস থেকে বনবেলঘড়িয়া বাইপাস পযর্ন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ শুরু হয়। এরমধ্যে শহরের জিরো পয়েন্টের উভয়পাশে প্রায় ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়ক ১০০ ফুট প্রশস্ত করা হবে। এজন্য জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে অর্থ পরিশোধের জন্য সাড়ে ২৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।