দুবাইয়ের ইহুদিরা স্থায়ী সিনাগগ চান

দুবাইয়ের ইহুদিরা স্থায়ী সিনাগগ চান

আন্তর্জাতিক

২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। এরপর থেকে দুবাইয়ে ইহুদি অভিবাসীর সংখ্যা বাড়ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার ইহুদিরাও দুবাইতে পাড়ি জমাচ্ছেন।

ফলে দুবাইতে ইহুদি সম্প্রদায় বড় হচ্ছে। তাই তারা একটি স্থায়ী সিনাগগ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। কিন্তু এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুবাইয়ের ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতারা।

দুবাইয়ে বসবাসরত অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্ম পালনের জন্য প্রার্থনাস্থল নির্মাণে দুটি এলাকা ঠিক করে দেয়া আছে। ক্যাথলিক ফিলিপিনো, প্রোটেস্ট্যান্ট আফ্রিকান ও হিন্দু ভারতীয়রা দুবাইয়ের মূল কেন্দ্র থেকে দূরে অবস্থিত ঐ এলাকায় গিয়ে ধর্মাচার পালন করেন।

ইহুদিদের সিনাগগ নির্মাণের জন্য দুবাই কর্তৃপক্ষ শহর থেকে দূরে জেবেল আলি বন্দরের কাছে একটি জায়গা প্রস্তাব করেছে। কিন্তু ইহুদি নেতৃবৃন্দ সেখানে যেতে রাজি নন। তারা শহরের কেন্দ্রে সিনাগগ নির্মাণ করতে চান। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, শাবাতের সময় (শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সন্ধ্যা) ধর্মপ্রাণ ইহুদিরা গাড়িসহ মেকানিক্যাল ডিভাইস ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন। সে কারণে ইহুদিদের প্রার্থনাস্থল সাধারণত কোনো আবাসিক এলাকার কেন্দ্রে স্থাপন করা হয় যেন হেঁটে সেখানে যাওয়া যায়। কিন্তু জেবেল বন্দর এলাকাটি শহর থেকে অনেক দূরে হওয়ায় আর দুবাইয়ের তাপমাত্রা অনেক বেশি হওয়ায় হেঁটে সেখানে যাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান ইহুদি নেতারা।

দুবাইয়ের ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতা অ্যালেক্স পেটারফ্রয়েন্ড বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, ‘‘ইহুদিদের জন্য জেবেল আলি কোনো সমাধান নয়।” তিনি বলেন, ‘‘কর্তৃপক্ষকে ইহুদি ধর্ম সম্পর্কে জানতে হবে… আমার মনে হয় তারা একটু অবাক হয়েছে।”

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় মানবাধিকার কর্তৃপক্ষ সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেছে, ‘‘প্রশাসনিক ও রেগুলেটরি কিছু নিয়মকানুন আছে যা মানতে হবে।”

দুবাইয়ে ইহুদিদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সেখানে ইতিমধ্যে একটি ইহুদি নার্সারি গড়ে উঠেছে। কোশর খাবারের রেস্টুরেন্টও ভালো ব্যবসা করছে। মিকভে নামে ইহুদি নারীদের পবিত্র গোসল করার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

তবে স্থায়ী সিনাগগ না থাকায় ইহুদিরা সৈকতপাড়ের ভিলা, হোটেল কিংবা লাক্সারি অ্যাপার্টমেন্টকে অস্থানীয় সিনাগগ বানিয়ে সেখানে প্রার্থনা করছেন। কিন্তু ‘হোটেলে কমিউনিটি হিসেবে গড়ে ওঠা সম্ভব নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন আমিরাতের ইহুদি পরিষদের সিনিয়র রাব্বি এলি আবাদি।