ধুনটে পাকা সড়কে জলাবদ্ধতায় চরম জনদুর্ভোগ

ধুনটে পাকা সড়কে জলাবদ্ধতায় চরম জনদুর্ভোগ

রাজশাহী

পাকা সড়কপথ দেখলে মনে হয় এ যেন নৌপথ। পানি নিষ্কাশনের নেই কোনো ব্যবস্থা। তাই সড়কটি এখন পরিণত হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতায়। এটি বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর-মহিশুরা পাকা সড়কের ধেরুয়াহাটি গ্রামের চিত্র।

বারবার আশ্বাসের কথা শোনা গেলেও এ ভোগান্তি থেকে রেহাই মিলছে না এলাকাবাসীর। এ সমস্যাকে অনেকটা নিয়তি হিসেবেই মেনে নিচ্ছেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে সড়কটি পাকা করা হয়েছে। উপজেলার মথুরাপুর ও গোপালনগর ইউনিয়নবাসীর যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। দীর্ঘদিন ধরে ভারী যানবহন চালাচল করায় পুরো সড়কটি ভগ্নদশায় পতিত হয়েছে। আর এই সড়কের ধেরুয়াহাটি গ্রামের অংশে ৫০ মিটারের বেশি জায়গা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

পাকা সড়কের ওপর প্রায় এক মাস ধরে জমে আছে নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি। যাতায়াত করতে হলে এই পানি এড়ানোর কোনো উপায় নেই। এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী প্রায় অর্ধ লাখ মানুষের দুর্ভোগের চিত্র একই ধরনের। সড়কটি এমনিতেই নিচু। আবার সড়কের দুই ধারে মাটি ভরাট ও বসতবাড়ি নির্মাণ হওয়ায় সড়কটি আরো নিচু হয়ে গেছে। নিষ্কাশনের পথ না থাকায় পাকা সড়কে পানি জমে থাকছে।

কথা হয় স্থানীয় অটোরিকশাচালক বছির উদ্দিনের সঙ্গে। জলাবদ্ধতার ছবি তুলতে দেখে তিনি জানান, এটা তো সড়ক নয়, ডোবা। এখনো তেমন বৃষ্টি বা বর্ষা আসেনি, তার আগেই এখানে হাঁটু সমান পানি। মাঝেমধ্যে এখানকার গর্তে রিকশা উল্টে যায়। তবু কেউ সড়কটি ঠিক করছে না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবুল ইসলাম বলেন, এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ চলাফেরা করে থাকে। এমন অবস্থা হয়েছে যে বোঝার উপায় নেই সড়কটি কখনো পাকা করা হয়েছিল। বর্তমানে সড়কটি চলাচলের অযোগ্য। তিনি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানান।

উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান আহম্মেদ জেমস মল্লিক বলেন, ‘সড়কে জলাবদ্ধতার বিষয়টি জানা আছে। লোকজন জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী মনিরুল সাজ রিজন বলেন, ‘পাকা সড়কে সমস্যার বিষয়টি এলাকাবাসী আমাকে জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’