বড়পুকুরিয়া শ্রমিকদের আন্দোলনে উৎপাদনের ঝুঁকিতে পড়েছে কয়লাখনি

বড়পুকুরিয়া শ্রমিকদের আন্দোলনে উৎপাদনের ঝুঁকিতে পড়েছে কয়লাখনি

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিএমসি-এক্সএমসি কনসোর্টিয়ামের অধিনে কর্মরত দেশিশ্রমিকদের খনির বাইরে এবং ভেতরে লাগাতার আন্দোলনের কারণে উৎপাদনের ঝুঁকিতে পড়েছে খনিটি। খনিশ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে খনির ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

রোববার সকাল ১১ টার দিকে বড়পুকুরিয়া কললাখনি শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের ব্যানারে শ্রমিকরা স্ব স্ব পদের কাজে যোগদান এবং করোনা কালীন সময়ের বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা খনির প্রধান গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিক্ষোভ শেষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম, শ্রমিক নেতা এহসানুল হক সোহাগ, এরশাদ আলী, আবু তাহের প্রমুখ। শেষে দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর প্রদান করেন আন্দোলনকারি শ্রমিকরা।

এদিকে রোববার শ্রমিকদের আন্দোলনের সাথে যোগ দিয়েছিলেন খনির ভেতরে কর্মরত এবং ঈদের ছুটিতে বাড়ীতে আসা শ্রমিকরাও। ফলে আন্দোলনের মাত্রা ভিন্নতা রুপ নিয়েছে।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি ও সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান বলেন, দুইদফা দাবিতে শ্রমিকরা গত ২৭ এপ্রিল থেকে খনি গেটে পরিবার পরিজন নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের চাকরিতে যোগদানসহ তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুইদফা দাবি বাস্তবায়নসহ খনির গেট উন্মুক্ত রাখতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনকারি শ্রমিকরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে খনি গেটে আমরণ অনশন শুরু করতে বাধ্য হবেন।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খনিশ্রমিকদের আন্দোলনে খনির উন্নয়ন ও উৎপাদন কার্যক্রম কিছুটা হলেও বিঘœ ঘটছে। ১৩১০ নং কোল ফেইস থেকে কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম চলছিল। ওই ফেইসের কয়লা প্রায় শেষ হয়ে আসার সময় খনির বাইরে আন্দোলনকারি শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে ভেতরের শ্রমিকরাও আন্দোলন শুরু করে। এতে বাধ্য হয়ে ১৩১০ কোল ফেইসের কয়লা উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই ফেইসে আরও দু-চারদিন কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব হতো। তবে শ্রমিকদের দাবি নিয়ে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিসিএমসিএল কর্তৃপক্ষ কথা বলেছেন। তবে শ্রমিকদের বর্তমান দাবি প্রধান গেট উন্মুক্ত খুলে রাখা। সে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান খন বলেন, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে অধিনে কর্মরত প্রায় এক হাজার শ্রমিকদের কাজে যোগদানের বিষয়ে চীনা ঠিকাদারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে সকল শ্রমিককে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) পক্ষ থেকে ঈদ উপলক্ষে এককালীন পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কয়লাখনির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকেই কয়লাখনি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।