কিশোরগঞ্জে যমুনেশ্বরীর বালুচরে চিনাবাদাম চাষ

কিশোরগঞ্জে যমুনেশ্বরীর বালুচরে চিনাবাদাম চাষ

রংপুর

পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ, ঔষধি ফসল চিনাবাদাম। সোনার মোহর খ্যাত অর্থকরী এ ফসলের বাণিজ্যিকভাবে এই প্রথম চাষ হচ্ছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পরামর্শে সফলতার মুখ দেখাছে বাদাম চাষীরা।

২০২১-২০২২ অর্থবছরে রাজস্ব খাতের অর্থায়নে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্লোট প্রদর্শনীর মাধ্যমে বারি চিনাবাদাম-৮ জাতের বীজ ও সার সরবরাহের মাধ্যমে এর চাষাবাদে কৃষকরা ঘুরে দাঁড়ানো স্বপ্ন বুনছেন। রোগবালাই, উৎপাদন খরচ কম, বাজার মূল্য ভালো, বিপণনে ঝামেলাবিহীন, বালুচরসহ আলু, ভুট্টার জমিতে সহজে চাষযোগ্য হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, চাঁদখানা ইউনিয়নের দক্ষিণ চাঁদখানা শাহ্ পাড়া গ্রামের কোলঘেঁষে বহমান যমুনেশ্বরীর নদীর বুকে জেগে ওঠা ধু-ধু বালুচড়ে চাষ হচ্ছে চিনাবাদাম। সবুজের সমারোহে বালুর নিচে মুঠো মুঠো গুপ্তধনের আশায় উৎফুল্ল কৃষকের মন। এ সময় মিরা খাতুন, যাদু মিয়া জানান,কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুন্নবী ইসলামের উৎসাহে প্রথমবারের মতো আমাদের প্রত্যেককে ৩৩ শতাংশ করে চরের জমিতে বাদাম চাষে আগ্রহী করে তুলছেন। অনাবাদি, ধু-ধু বালু চরে এমন বাদাম হবে এটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। কম খরচে, ভাল ফলন পেয়ে অধিক লাভবান হবেন এমন প্রত্যাশা তাদের।

শাহ্ পাড়া গ্রামের ফজলুর রহমান বলেন, বিঘা প্রতি বাদাম রোপন থেকে উত্তোলন খরচ হবে ২হাজার থেকে ৩হাজার টাকা। যা ফলন হবে ২০০কেজির মতো। এতে কৃষকেরা লাভবান হবেন। এবার বাজার মূল্য ভালো পেলে আগামিতে আরো অধিক জমিতে এর চাষাবাদ করবেন। পাশাপাশি পুটিমারী ইউপির সাধুপাড়া গ্রামের কৃষক বীরেন্দ্র নাথ রায়, বড়ভিটা মেলাবর পাঠাকরা গ্রামের বিসাধু বর্মন তারাও ৩৩ শতাংশ করে বালু মিশ্রিত জমিতে চিনাবাদামের চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। অল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় আগামিতে অনেক কৃষক বীজ নিয়ে বাদাম চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে তারা জানান।

কৃষি অফিস তথ্য সূত্রে জানা যায়, চিনাবাদামে চর্বি বা স্নেহ জাতীয় পদার্থ রয়েছে, যা কোলেস্টেরল কমায়। এ ছাড়া এতে বিভিন্ন ভিটামিন জাতীয় পদার্থ যেমন থায়ামিন, রিবোফ্লোবিন, নিয়াসিন, প্যানটোথেনিক অ্যাসিড, ভিটামিন বি-৬ ও ফোলেট রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। যা মানুষে দূরারোগ্য ক্যান্সার, রক্তস্বল্পতা, ডায়াবেটিস, জয়েন্ট এবং পিঠে ব্যাথার মত রোগ নিরাময়ে কাজ করে।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, অনাবাদি,ন দীর চর এলাকার মানুষকে বীজ, সার দিয়ে বাদাম চাষে উদ্ধুদ করা হয়েছে। এতে জমির ব্যবহার হচ্ছে।এতে বাদাম চাষিরা বিঘা প্রতি ১৫০-২০০ কেজি ফলন পেয়ে লাভবান হবেন।