নবান্ন উৎসবে মেতে উঠেছে কৃষক

নবান্ন উৎসবে মেতে উঠেছে কৃষক

রংপুর

নবান্ন উৎসবে মেতে উঠেছে কৃষক-ককৃষাণীরা। আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বোরো ধান কাটামাড়াইয়ে। দিনমজুর সংকটে ক্ষেতের পাঁকা ধান নিয়ে বিপাকে কৃষকরা। কোন উপায় না পেয়ে মেশিন দিয়ে ধান কাটামাড়াই করছে কৃষকরা। স্বপ্নের ধান ঘরে তুলতে পরিজন নিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করে ফসল ঘরে তোলার জন্য মরিয়া হয়ে পড়েছে কৃষক-কৃষাণীরা। কালবৈশাখী ঝড়ের হাত থেকে পাঁকা ধান রক্ষা করার জন্য চড়াদামে দিনমজুর এবং ভিন্ন জেলা হতে মেশিন নিয়ে এসে ধান কাটামাড়া চলছে পুরোদমে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেলে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ২৬ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ হয়েছে। ফলন ভাল হয়েছে। ইতোমধ্যে পুরোদমে ধান কাটামাড়াই শুরু করেছে কৃষকরা। বিশেষ করে তিস্তার চরাঞ্চলে ফলন সবচেয়ে ভাল হয়েছে।

তারাপুর ইউনিয়নের কৃষক রেজাউল ইসলাম জানান, তিনি ৪বিঘা জমিতে বোরো চাষাবাদ করেছে। দিনমজুর সংকটে পাঁকা ধান ঘরে তুলতে পারছি না। প্রতিবিঘা জমিতে চারা রোপন থেকে শুরু করে কাটামাড়াই পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৮ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি ফলন হয়েছে ১৪ হতে ১৫ মন। বর্তমান বাজারে প্রতিমন ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা দরে। ধানকাটা মেশিন হারবেস্টার কমবাইন্ড দিয়ে প্রতিবিঘা জমির ধান কাটামাড়াই করার জন্য দিতে হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ হতে ২ হাজার ৫০০ টাকা। এদিকে দিনমজুর দিয়ে কাটামাড়াই করতে খরচ হচ্ছে ৪ হাজার হতে ৪ হাজার ৫০০ টাকা। তিনি আরও বলেন মেশিন দিয়ে ধান কাটামাড়াই করার পর ক্ষেত থেকে খড় (পল) সরানোর জন্য দেড় হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সবমিলে মেশিনের চেয়ে দিনমজুর দিয়ে ধান কাটা মাড়াইয়ে অনেক সুবিধা রয়েছে।

দিন মজুর ফরমান আলী জানান, এখন অনেকে ধান কাটামাড়াইয়ের কাজ না করে আটো ভ্যান চালাচ্ছে। সে কারণে দিনমজুরের সংকট দেখা দিয়েছে। দিন হাজিরা দিয়ে এখন আর পোষাই না। সে কারণে চুক্তি নিয়ে কাটামাড়াই করা হচ্ছে। প্রতিবিঘা জমি কাটামাড়াইয়ের জন্য ৪ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে।

ধান কাটামাড়াই মেশিনের মালিক মিলন মিয়া জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পরার্মশক্রমে প্রণোদনার ভিত্তিতে ২৮ লাখ টাকা দিয়ে গত দুই বছর আগে হারবেস্টার কমবাইন্ড মেশিন ক্রয় করেছি। এখন পর্যন্ত মেশিনের টাকা পরিশোধ করতে পারিনি। কৃষকরা মেশিন দিয়ে ধান কাটামাড়াই করতে চায় না। কৃষকদের মাঝে সচেতনতার অভাব রয়েছে। বর্তমানে প্রতিবিঘা জমি আড়াই হাজার টাকায় কাটামাড়াই করা হচ্ছে। একটি মেশিন চালাতে চালকসহ ২ জন শ্রমিক লাগে। তাছাড়া তেলের দাম অনেক বেশি।

উপজেলা কৃষি অফিসার রাশিদুল কবির জানান, চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ফলন অত্যন্ত ভাল হয়েছে। ইতোমধ্যে পুরোদমে কাটামাড়াই শুরু করেছে কৃষকরা। দিনমজুর নেই বললে চলে, উচ্চ বিত্ত ও মধ্যেবিত্ত শ্রেনির কৃষকরা এখন বর্গা দিয়ে চাষাবাদ করছে। দিনমজুর শ্রেনির কৃষকরা বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করছে। সে কারণে দিনমজুর সংকট দেখা দিয়েছে। তবে মেশিনের সাহায্যে কাামাড়াইয়ে অনেক সুবিধা রয়েছে।