বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভিতরে ও বাইরে বিক্ষোভ, উত্তোলন বন্ধ

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভিতরে ও বাইরে বিক্ষোভ, উত্তোলন বন্ধ

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বকেয়া বেতন ও কাজে যোগদানের দাবিতে তৃতীয় দিনের মত অবস্থান কর্মসুচি পালন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভিতরের ও বাইরের দেশি শ্রমিকরা। শুক্রবার খনির কয়লা সরবারাহ গেটের ভিতরে ও বাইয়ে অবস্থান কর্মসুচি ও বিক্ষোভ মিছিল করেন শ্রমিকরা।

পুর্বঘোষিত কর্মসুচি অনুযায়ী গত ২৪ এপ্রিল বুধবার বেলা ১২টা থেকে খনির মূল ফটকে পরিবারসহ তারা এই বিক্ষোভ ও অবস্থান শুরু করেন। এর আগে গত ২১ এপ্রিল রোববার তারা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর দুই দফা দাবী নিয়ে একটি স্মালকলিপি দিয়ে দাবি মেনে নিতে বুধবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন শ্রমিকরা,দাবী না মানায় এই অবস্থান কর্মসুচি করছেন বলে জানিয়েছেন তারা। আন্দোলনের মুখে কয়লা উত্তোলন বন্ধ হয়েছে।

এসময় ভিতরের শ্রমিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,শ্রমিক আমিন হোসেন, সেরাজুল ইসলাম,জাকির হোসেন। বক্তব্য রাখেন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম,শ্রমিক নেতা মো.সাইফুল ইসলাম,ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।

আন্দোলন চলাকালে খনির ভিতরে কাজ করা শ্রমিকদের সাথে দেখা করতে কয়লা সরবারাহ গেটে আসেন শ্রমিকদের স্ত্রী ও সন্তানরা। দেখা করতে আসা নাসরিন আক্তার, শিরিনা, শায়লা আক্তার নামে কয়েকজন শ্রমিকের স্ত্রী জানান, সামনে ঈদ আমাদের স্বামীদের ভিতরে কাজ করছেন, তাদের বাহিরে বের হতে দিচ্ছেন না।

এদিকে কর্মহীন শ্রমিকরা স্ত্রী সন্তান নিয়ে খনি এলাকায় প্রতিদিন দুপুর ১২ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত অবস্থান করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি কয়লা উত্তোলন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরাও খনির ভিতরে আন্দোলন শুরু করেছে। শ্রমিকরা দাবি পূরণের জন্য গত ২৪ এপ্রিল স্মারকলিপির মাধ্যমে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়। এ সময়ের মধ্যে দাবি পুরণ না হওয়া তারা গত বুধবার থেকে যুগপদ আন্দোলনে যায়। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম জানান- এখন পর্যন্ত খনি কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে কোন আলোচনায় বসেনি।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অবস্থান কর্মসুচি চলবে।”

রবিউল ইসলাম জানান,চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে খনিতে মোট এক হাজার ১৪৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছিলেন। দুই বছর আগে করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে কর্মরত এক হাজার ১৪৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারীতে ৪০০ জন শ্রমিককে কাজ করার শর্তে ফেরত নেয়। বাকি ৭৪৭ জনকে কাজে যোগদানের সুযোগ না দিয়ে বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। সামনে ঈদ ভেতরের শ্রমিকরদের খনির বাইরে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, ছুটি দেওয়ার সময় প্রতি মাসে শ্রমিকদের সাড়ে চার হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল। ওই টাকা দেওয়াও শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত আট মাস ধরে তা আর দেওয়া হচ্ছে না। তবে কর্মরত শ্রমিকদের নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান জানান- কয়লা উত্তোলন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা কাজ আন্দোলন শুরু করায় গত বুধবার থেকে কয়লা উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। তবে বর্তমান উৎপাদনশীল ১৩১০ নম্বর কোলফেইজের মজুদও সপ্তাহখানের মধ্যেই শেষ হয়ে কয়লা উত্তোলন এমনিতেই বন্ধ হতো। তিনি আরও জানান- নতুন ১৩০৬ নম্বর ফেউজ থেকে কয়লা উত্তোলন করা হবে।

১৩১০ নম্বর ফেইজ থেকে যন্ত্রপাতি সরিয়ে ১৩০৬ নম্বর ফেইজে স্থাপন কওে কয়লা উত্তোলনে যেতে অন্তত সাড়ে তিন মাস সময় লাগবে। বর্তমানে খনি ইয়ার্ডে ২ লাখ টনের বেশী কয়লা মজুদ রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে এমডি জানান- পুনরায় উৎপাদন শুরু হলে পর্যায়ক্রমে সকল শ্রমিককে কাজে যোগদান করাবে বলে এক্সএমসি-সিএমসি রাজি হয়েছে।