পরিবার পরিজন নিয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু

পরিবার পরিজন নিয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লখনির দেশি শ্রমিকরা দুইদফা দাবিতে বুধবার সকাল ১১ টা থেকে খনি গেটের সামনে পরিবার পরিজন নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

গত রবিবারের (২৪ এপ্রিল) পূর্ব ঘোষিত আন্দোলনের কর্মসূচি অনুযায়ী আন্দোলকারি পাঁচ শতাধিক শ্রমিক তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের ব্যানারে দুইদফা দাবিতে খনি গেটে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন।

দুইদফা দাবির মধ্যে রয়েছে, করোনা কালীন সময়ে লকডাউনের কারণে বাড়ীতে অবস্থানকারি শ্রমিকদের স্ব-স্ব কর্মে যোগদান করানো এবং করোনাকালীন সময়ের বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান করা।

আন্দোলনকারি শ্রমিকরা সকলেই কয়লাখনির চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিএমসি-এক্সএমসি কনসোর্টিয়ামের অধিনে কর্মরত ছিলেন।

দুইদফা দাবিতে খনি গেটে শ্রমিকদের অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে দাবির সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম, শ্রমিক নেতা এহসানুল হক সোহাগ, এরশাদ আলী, আবু তাহের প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, খনির সূচনালগ্ন থেকেই আন্দোলনকারি শ্রমিকরা ভূগর্ভের নিচে প্রায় ৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় কয়লা উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকে পার্শ্ববর্তী কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রেখেছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ওই সময় শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিজ নিজ বাড়ীতে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে লকডাউন উঠে গেলেও বাড়ীতে অবস্থানকারি শ্রমিকদের তাদের কর্মে ফেরানো হয়নি। একইভাবে তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়নি। এ বিষয়ে খনি কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবরা আলোচনা করেও কোন সুরাহা হয়নি। ফলে বেকার শ্রমিকরা দীর্ঘ সময় ধরে পরিবার পরিজন নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন। একারণে আজ পরিবার পরিজন নিয়ে খনি গেটে দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা তাদের ন্যয্য দাবির আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান খন বলেন, চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে অধিনে কর্মরত প্রায় এক হাজার শ্রমিক রয়েছেন। এরমধ্যে করোনার কারণে ৪৫০ থেকে ৫০০ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ চালাচ্ছেন। ওই সময় যেসব শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছিল তারাও এখন বেতনভাতা দাবি করছেন। কিন্তু চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের বেতন-ভাতাসহ কাজে নেওয়ার বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাদেরকে আবারও কাজে নিতে পারে। তবে খনি কর্তৃপক্ষ ইতোপূর্বে ওইসব শ্রমিকদের বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) পক্ষ থেকে এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আসন্ন ঈদে পুরনায় তাদেরকে অর্থ সহায়তার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে শ্রমিকদের অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।

এদিকে কয়লাখনির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকাল থেকেই কয়লাখনি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।