রংপুরে কালবৈশাখী তাণ্ডব

রংপুরে কালবৈশাখী তাণ্ডব

রংপুর

কালবৈশাখী ঝড় এবং শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে রংপুরের পাঁচটি উপজেলার কয়েক শতাধিক বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হাটবাজার। গাছপালা উপড়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে এ ঘটনায় খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে হাজারো পরিবার। মিঠাপুকুর উপজেলার বড়বালা ইউনিয়নের ইউনিয়নের কেশবপুর, তরফবাহাদী, নয়াপাড়াসহ ১০টি গ্রামের কয়েক শ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়ন সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান। মুকুল শেষে সব বাগানে গুটিগুটি আম। প্রায় সব বাগানের একটি বড় অংশ মাটিতে পড়ে গেছে। আমগাছ নষ্ট হয়েছে, আমচাষিরা উদ্বিগ্ন।

অন্যদিকে কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া শহীদবাগ, সারাই ইউনিয়নের শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লণ্ডভণ্ড হয়েছে উপজেলার টাংরির বাজার, মিলন বাজার, হরিণচড়া আদর্শ বাজার, বাঁশদহসহ আশপাশের এলাকা। ফায়ার সার্ভিস সাতজন বাচ্চাসহ একজন মধ্যবয়সী পুরুষকে উদ্ধার করে হারাগাছ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ ছাড়াও রংপুরের গঙ্গাচড়ার খলেয়া, নোহালি, আলমবিদিতর, সদর উপজেলার পাগলাপীর, সদ্যপুস্করনী, বদরগঞ্জের লোহানীপাড়া কুতুবপুর ইউনিয়ন সহ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েক হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এসব এলাকার হাজারো গাছপালা উপড়ে গেছে। মধ্যরাত থেকে বন্ধ আছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। রাতের আঁধারে এই ঝড় এবং শিলাবৃষ্টি হওয়ায় খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে হাজারো মানুষ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে পড়েছে বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

রংপুরের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী এবং শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এ সময় প্রায় ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়।