লালমনিরহাটের বৃদ্ধ আজিমুউদ্দিনের তিন সন্তান প্রতিবন্ধী

লালমনিরহাটের বৃদ্ধ আজিমুউদ্দিনের তিন সন্তান প্রতিবন্ধী

রংপুর

৭৫ বছর বয়সী আজিমউদ্দিন কিছুদিন আগেও দিনমজুরের কাজ করে সংসার খরচ চালালেও বর্তমানে বয়সের ভাড়ে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। তাই এখন আর তাকে কেউ কাজেও নেয় না। তার পরিবারে রয়েছে তিনজন প্রতিবন্ধী সদস্য। কাজ না পাওয়ায় তার পরিবারের এই তিন প্রতিবন্ধী সদস্য নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র, অসহায় বৃদ্ধ আজিমুউদ্দিন।

প্রতিবন্ধী সন্তানদের চিকিৎসার জন্য নেই অর্থ। দরিদ্র, অসহায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটিও তিনি। তাই এই বয়সে রিকশা চালিয়ে পরিবারের ৮ জন সদস্যের মধ্যে ৩ জনের চিকিৎসা করার কথা কল্পনাও করতে পারেন না।

ছেলে রাজ্জাকের উপার্জনের পাঠানো অর্থে যেখানে চাল, ডাল, তেল আনতে সব খরচ হয়ে যায় সেখানে তাদের চিকিৎসার অর্থ থাকারও কথা নয় তার।

হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউপির মিলনবাজার পূর্ব সাড়ডুবি এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজিমউদ্দিন। কিছুদিন আগেও দিনমজুরের কাজ করে সংসারের হাল ধরলেও বর্তমানে এখন কেউ আর তাকে কাজে নেয় না। এজন্য ৮ সদস্য পরিবারের হাল ধরেন বৃদ্ধ আজিমুউদ্দিনের বড় ছেলে আবদুর রাজ্জাক মিন্টু। মিন্টু ঢাকায় ভাড়ায় রিকশা চালিয়ে সংসার চালান।

দীর্ঘদিন থেকে মাথার সমস্যায় ভুগছেন বৃদ্ধ আজিমুউদ্দিন এর ছোট ছেলে আশরাফুল আলম। অপরদিকে বড় ছেলে মিন্টুর ২টি ছেলে সাইফুর রহমান জন্ম থেকে সব সময় চিৎকার করে, ঘাড় নাড়ে, মাটিতে গড়াগড়ি করে আর কিছুই খেতে চায় না। আরেক ছেলে রহমত চোখের সমস্যায় এক দিকে তাকিয়ে থাকে।

কান্না জড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধ আজিমুউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের বেঁচে থেকে কোনো লাভ নেই। এতো কষ্টের চাইতে মরে যাওয়াই ভালো। অসুস্থ ৩ জনের চিকিৎসা করা তো দূরের কথা, ডাক্তারকে ভিজিট দেব সে টাকাই তো নেই। বড় ছেলে মিন্টু অন্যের রিকশা ভাড়ায় চালিয়ে সামান্য যে টাকা আয় করে তা দিয়ে সংসারই চলে না। পরনের কাপড় নেই। এরপরে তাদের চিকিৎসা করব কিভাবে’।

আজিমুউদ্দিন নিজের জন্য কিছু ভাবেন না। তার যত ভাবনা সব বাকি সদস্য ও অসুস্থ ৩ জনকে নিয়ে। তিনি প্রধানমন্ত্রী ও বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ জানান তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। মৃত্যুর আগে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের মুখে একটু হাসি দেখতে চান এটাই তার শেষ ইচ্ছা।

বড়খাতা ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান জানান, ওই পরিবারটিকে ইউপি থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। পারিবারের ৩ জন সদস্যের চিকিৎসার জন্য বিত্তবানরা সহযোগিতা করলে হয়তো অসহায় পরিবারটির অসুস্থ সদস্যদের চিকিৎসা হবে।