দুই দফা দাবিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিকদের বিক্ষোভ

দুই দফা দাবিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি শ্রমিকদের বিক্ষোভ

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ বিক্ষোভ-মিছিল, স্মারক লিপিতে কোন প্রকার উদ্দ্যোগ গ্রহণ না করায় শ্রমিক নেতৃবৃন্দ দাবী দু দফা দাবী পূরণে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ঘোষনা করেছে। এসময়ের মধ্যে দাবী পূরণ না করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ৬’শ শ্রমিক এবারের ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে খনি গেটেই অবস্থান করে এবারের ঈদ করবেন।

আজ রোববার দুুপুরে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অবস্থান ধর্মঘট ও স্মারক লিপি প্রদানের মধ্য দিয়ে এমন ঘোষনা দিয়েছেন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। অতিমারী করোনার অজুহাতে ২০২০ সালের ২৬শে মার্চ প্রায় ৬’শ শ্রমিককে ছুটি দিয়ে বাড়ী পাঠিয়ে দেয় পরবর্তীতে কাজে যোগদানের আশ্বাস দিয়ে কর্তৃপক্ষ।

গত দু’বছর মানবেতন জীবন-যাপনসহ বিভিন্ন সময়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শ্রমিকরা বকেয়া-বেতন, ভাতা ও কাজে যোগদানের দাবী জানালেও চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এক্সএমসি এবং সিমএমসি ও বিসিএমসিএল কর্তৃপক্ষ কোনক্রমইে কর্নপাত করছে না শ্রমিকদের দাবী। অপরদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে আটকে পড়া কর্মরত প্রায় ৪’শ শ্রমিক মানবেতর জীবন-যাপন করছে কারন তাদের বাহিরে আসতে দেওয়া হয় না।

জানানো হয়েছে, ১১’শ শ্রমিকের কাজ মাত্র ৪’শ শ্রমিকের মাধ্যমেই করিয়ে নিচ্ছে চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি। ইতিমধ্যে কঠোর পরিশ্রমের মুখে একজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়াও দুজন শ্রমিকের পিতা-মাতা মৃত্যুবরণ করলেও তাদেরকে বের হতে দেওয়া হয়নি। এমনটাই অভিযোগ করলেন শ্রমিক নেতারা।

বিভোক্ষ সমাবেশের বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি ও সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান বলেন, আগামী ২৭ এপ্রিলের মধ্যে তাদের দাবী-দাওয়া মেনে নেওয়া না হলে হয়তো জেলখানায় নয়তো খনি গেটেই তাদেরকে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদ পার করতে হবে।

এছাড়াও পরবর্তী যেকোন ধরনের খারাপ পরিস্থির উদ্ভব হলে সকল দায়-দায়িত্ব খনি কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে। এ ব্যাপারে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী কারুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে বারবার কথা বলার চেষ্টা করেও কোন সাড়া মেলেনি।