লালমনিরহাটে সুপারী গাছ থেকে পড়ে ১৩ বছরের শিশুর মৃত্যু

রংপুর

একটি সুপারী গাছ থেকে সুপারী পেরে দিলেই পাওয়া যায় ৫ টাকা। কিন্তু সেই পাঁচ টাকা আর পাওয়া হলো না আজিজুল ইসলাম (১৩) নামে ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রের। সুপারী গাছে উঠার মাঝ পথ থেকে পিছলে পড়ে গিয়ে ঘটনা স্থলেই তার মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের শুপরাজি গ্রামে শিশু মৃত্যুর এই ঘটনাটি ঘটে।

মৃত আজিজুল ইসলাম সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের তেলিপাড়া এলাকার রিক্সা চালক শারীরিক প্রতিবন্ধী নুর আলমের ছেলে।

স্থানীয় জনগন ও পুলিশ সুত্র জানায়, আশরাফুল নামে এক সুপারী ব্যবসায়ী তার বাগানের সপারী পাড়ার জন্য মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের তেলীপাড়া থেকে মৃত আজিজুল, জসিম ও কুদ্দুস নামে তিন শিশুকে সুপারী পাড়ার জন্য ভাড়া করে নিয়ে যায়। প্রতি গাছ থেকে সুপারী পারলেই প্রত্যেককে দেয়া হবে ৫ টাকা করে। তাতে যে যত গাছে উঠে সুপারী পারতে পারে।

আশরাফুলের ওই সুপারী বাগানে কয়েক শত সুপারীর গাছ থাকায় তারা তিনজনেই গাছে উঠে সুপারী পারতে থাকে। ইতোমধ্যে প্রত্যেকে ২০টি করে গাছের সুপারী নামানোও শেষ করে। এ সময় আজিজুল বৃষ্টিতে ভেজা একটি শ্যাওলা ধরা সুপারী গাছে উঠতে গেলে গাছের মাঝপথ থেকে পড়ে যায় এবং নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে ঘটনা স্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর পরই নিহত শিশু আজিজুলের লাশ এক নজর দেখার জন্য মুহুর্তের মধ্যেই সেখানে শত শত মানুষের ভীর জমে। পরে এলাকাবাসী থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে মরদেহের সরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ থানায় আসে।

শিশু আজিজুল মারা যাওয়ার কথা জানতে পাওয়ার পরেও ঘটনা স্থলে মৃত ছেলের লাশ দেখতে আসেনি তার বাবা মা। এ কারণে মৃত আজিজুলের বাবা-মায়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় লোক দিয়ে সুপারী পারলে তার খরচ বেশি হবে তাই সুপারি ব্যবসায়ী আশরাফুল হক ছেলেটি তিনজনকে টাকার লোভ দেখিয়ে মহেন্দ্রনগর থেকে নিয়ে আসে। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সুপারী গাছ গুলো পিচ্ছিল থাকায় গাছে উঠতে গিয়ে আজিজুল নামে ওই শিশুটির মৃত্যু হয়।

এদিকে গাছ থেকে পড়ে শিশু মারা যাওয়ার কথা এলাকায় ছড়িলে পড়লে সুপারী ব্যবসায়ী আশরাফুল পালিয়ে যায়।

লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহা আলম গাছ থেকে পড়ে শিশু মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে একটি থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের হয়েছে। নিহত শিশুর বাবা-মায়ের যদি কোন অভিযোগ না থাকে তাহলে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে লাশ তার পরিবারকে দেয়া হবে।