বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে ফুলবাড়ী ৮ম শ্রেনীর ছাত্রীর আত্মহত্যা

দিনাজপুর

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে গলায় ফাঁশ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সোহাগী আক্তার বৃষ্টি নামে এক ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী।

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বেতদিঘী ইউনিয়নের খড়মপুর গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে।

আত্মহত্যাকরী ৮ম শ্রেনীর ছাত্র গোহাগী আক্তার বৃষ্টি ফুলবাড়ী উপজেলার খড়মপুর গ্রামের মহসিন আলীর মেয়ে ও সিদ্দিশী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী। এই ঘটনায় শোকের ছাঁয়া নেমে এসেছে খড়মপুর গ্রামসহ তার বিদ্যালয়ের মধ্যে।

সিদ্দিশী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন সোহাগী আক্তার একজন নম্্রভদ্র শান্ত প্রকৃতির মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তিনি বলেন সোহাগী আক্তার আত্মহত্যার পথ বেছে না নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে কথা বলতে পারতো, কিন্তু তা না করে আত্মহত্যার পথ বেচে নিয়েছে, এটা অত্যান্ত দুঃখ জনক হৃদয়বিদারক ঘটনা। সোহাগী আক্তারকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে তার সহপাটিসহ প্রতিবেশিরা।

প্রতিবেশিসহ সোহাগী আক্তারের সহপাটিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে। খড়মপুর গ্রামের মৃত আমিনুল হকের ছেলে চল্লিশউর্দ্ধ বয়সী আতিয়ার রহমান নামে এক ব্যাক্তি, সোহাগী আক্তার বৃষ্টিকে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করার প্রস্তব করে, সাথে সোহাগী আক্তার বৃষ্টিকে বিয়ের পণ হিসেবে ২৫শতক জমি লিখে দেয়ার প্রতিশ্রতি দেয়।

এই প্রতিশ্রুতিতে সোহাগী আক্তার বৃষ্টির মা আমিনা বেগম, চল্লিশউর্দ্দ বয়সী আতিয়ার রহমানকে বিয়ে করার জন্য সোহাগী আক্তার বৃষ্টিকে চাপ দিতে শুরু করে, কিন্তু সোহাগী আক্তার সেই বিয়েতে রাজি না হওয়ায়, বৃষ্টির মা প্রায় সময় বৃষ্টিতে মার-পিট করে। ঘটনার দিন (মঙ্গলবার) বিকালে সোহাগী আক্তার বৃষ্টি বিদ্যালয় থেকে বাড়ী ফিরার পর, তার মা আমিনা বেগম বৃষ্টিকে চর-থাপ্পর দিয়ে সোহাগী আক্তার বৃষ্টিকে ঘরের মধ্যে রেখে ঘরের দরজায় তালা দিয়ে, পার্শবর্তি মাদিলাহাটে চাল (চাউল) নেয়ার জন্য আসে, এরপর চাল নিয়ে বাড়ী ফিরে দেখে, ঘরের মধ্যে সোহাগী আক্তার বৃষ্টি গলায় ফাঁশ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

এই ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে আতিয়ার রহমান সত্যতা স্বীকার করে বলেন সে বিয়ে করার জন্য প্রতিবেশি মোয়াজ্জেনেরে স্ত্রী হোসনে আরার মাধ্যমে প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু বিয়ে হয়নি, স্ত্রী ঘরে থাকতে আবারো বিয়ে করার প্রয়োজন কেন হলো জানতে চাইলে, আতিয়ার রহমান বলেন প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান না হওয়ায়, প্রথম স্ত্রীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে, একই কারনে দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার পথে, এই জন্য সে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করার প্রস্তাব করেছেন।

এদিকে সোহাগী আক্তারের প্রতিবেশিরা জানায় আতিয়ার রহমানের সাথে বিয়ে দেয়ার জন্য সোহাগী আক্তার বৃষ্টির পিতা মহসিন আলীর সম্মতি না থাকলেও, বৃষ্টির মা আমিনা বেগম জমির জন্য বেশি চাপ দিয়ে আসছিল।

কিন্তু সোহাগী আক্তারের মা আমিনা বেগম মেয়ে হারার আত্মনাতে একেবারে ভেঙ্গে পড়ায় তার সাথে কথা বলা সম্ভাব হয়নি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলবাড়ী থানার ওসি আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সন্ধায় সোহাগী আক্তার বৃষ্টির মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন বাল্য বিয়ে দেয়ার জন্য পরিবার থেকে চাপ দেয়ার ঘটনাটির, পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পেয়েছে। আরো তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে হলেই আত্মহত্যার জন্য দায়িদের বিরুদ্ধে আনিানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে তিনি জানান।