চিরিরবন্দরে আশ্রণের ঘর নির্মাণে বাঁধা

চিরিরবন্দরে আশ্রণের ঘর নির্মাণে বাঁধা

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে রেলওয়ে ব্রীজের উত্তর পার্শ্বে গুচ্ছগ্রামের পাশে মুজিববর্ষের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ কাজ করতে গিয়ে বাঁধার সম্মুখিন হয়ে পড়েছে উপজেলা প্রশাসন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের এসব বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করা হলে তাতে বাঁধা দিয়ে আসছেন উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের মৃত মকসেদ আলী সরকারের ছেলে সিরাজুল ইসলাম সরকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘সরকারি কাজে বাঁধাদানের’ অভিযোগে থানায় মামলা হলে সিরাজুল ইসলাম সরকারের ছেলে সেলিম সরকার, ভাই সাখাওয়াত হোসেনসহ ৩ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

মঙ্গলবার সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, সিরাজুল ইসলাম সরকার ‘জেলা প্রশাসনের নিকট থেকে সেখানকার ১৩ একর ৭০ শতক খাসজমি পত্তনমূলে জমি নিজের দাবি করে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করলে তাতে আদালত সিরাজুলের নামে লিজ নেয়া তিন একর জমি বাদ দিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর তৈরির নির্দেশনা দেয়। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের দাবি করেন যে মামলাটি হয়েছিল সেই মামলার রায় সরকারের পক্ষে এসেছে। কারণ ওইস্থানে খাসজমির পরিমাণ ১৩ একর ৭০ শতক। যার মধ্যে সিরাজুল ইসলাম সরকার ভোগদখল করতে পারেন ৩ একর জমি। অবশিষ্ট জমিগুলোতে এ আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণ করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, চিরিরবন্দর মৌজার ‘ক’ তফসিলভুক্ত জেএল নং ৬১, দাগ ৪০২৪/৫৮৫৮, খতিয়ান নং ১ এ নির্মাণ করা হচ্ছে মুজিববর্ষের উপহারের বাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩-এর অধিনে ৫০টি বাড়ি। এসব বাড়ি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেয়া হবে ২২ বছর আগে নির্মিত গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের। কারণ সরকারিভাবে নির্মিত ওই গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলো এখন ব্যবহার প্রায় অনুপযোগী।
আব্দুলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করতে গেলে কতিপয় লোক তাদের জমি বলে দাবি করছে। কিন্তু এই জমি সরকারের। এই জমিতে যারা বাঁধা সৃষ্টি করেছেন তাদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দিয়েছি।

অপরদিকে সিরাজুল ইসলাম সরকার দিনাজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৬৬ সালে প্রথম শ্রেণির কবলা দলিল মূলে তিন একর জমি পত্তন করেন আমার পিতা মৃত মকসেদ আলী সরকার। সেই হিসেবেই আমরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু প্রশাসন আমাদের না জানিয়েই ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করছে। এতে আমরা হয়রাণীর শিকারসহ আর্থিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছি।

এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দীকা বলেন, যে ব্যক্তি কাজ করতে বাঁধা দিচ্ছেন আমরা তার জমিতে কাজ করছি না। ওই ব্যক্তি তিন একর জমি ছাড়াও অতিরিক্ত জমি দখল করে আছেন। আবার উনি বন্দোবস্ত গ্রহণ করা জমি থেকে শর্ত ভঙ্গ করে অনেক জমিই স্ট্যাম্পের মাধ্যমে হাতবদল করেছেন। যা আইনসিদ্ধ নয়।