দিনাজপুর তেলাইকুড়ি মসজিদ ভাংচুর কারিদের শাস্তি মসজিদের সম্পদ রক্ষার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

দিনাজপুর তেলাইকুড়ি মসজিদ ভাংচুর কারিদের শাস্তি মসজিদের সম্পদ রক্ষার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

দিনাজপুর

সংবাদ সম্মেলনঃ দিনাজপুর সদরের তেলাইকুড়ি জামে মসজিদ ভাংচুরের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তিসহ মসজিদের সম্পদ এবং পুকুরের আয়ের অর্থ রক্ষায় সরকারের সহযোগীতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত।

১৯ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শংকরপুর গ্রামের মরহুম রহিম উদ্দীনের পুত্র মো: সাইদুর রহমান। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবী করেন, শংকরপুর গ্রামে তেলাইকুড়ি জামে মসজিদের নামে জুম্মাঘর নির্মানের জন্যে ২টি দাগে সাড়ে ৩ শতক এবং মসজিদ পরিচালনার লক্ষে তেলাইকুড়ি পুকুরসহ ৭৫ শতক জমি ওয়াকফ্ দলিল করে দেন পূর্বপুরুষেরা। যা বৃটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সরকারের আমলে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব পুরুষদের দান করা তেলাইকুড়িপুকুর ও সম্পত্তির আয় হতেই নির্মিত এই মসজিদের ইমাম ও মুয়াজিনের বেতনভাতাসহ অন্যান্য ব্যয়ভারবহন করা হয়। প্রভাবশালী স্বার্থানেষী মো: আরিফ হোসেন, মো: আনিসুর রহমান, মো: আব্দুর রহমান ও মো: সাবেদ আলীসহ আরো ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী লোহার রড,সাবল,দা,হাম্বুল দিয়ে গত ২৫/০৯/২১ ইং তারিখে এই মসজিদটি ভেঙ্গে ফেলে,যাহার সিআর নং ৭৬৭/২১।

এসময় অত্র মসজিদের জমিদাতা মো; আকতার হোসেন ও অন্যান্য দাতা ওয়ারিশগন মসজিদ ভাঙ্গতে বাধা দেয় এবং ৩০/৩২ বছরের আয়ব্যয়ের হিসাব জানতে চাইলে রইসুল,সাদ্দাম,মিরাজ ও আব্দুর রাজ্জাক ভীষন রাগাম্বিত হয়ে আকতারসহ অন্যদের কিলঘুষি মারতে শুরু করে।

আরিফ হোসেনের লোকজনের উগ্র মারমুখী আচরণের ফলে মসজিদের দাতাগন জীবননাশের সম্ভবনা দেখা দেয়ায় তারা ঘটনাস্থল হতে চলে আসেন। এই মসজিদটির নামে থাকা ৭৫ শতকের উপর তেলাইকুড়ি পুকুর বিক্রি করে অর্থ আত্বসাত ও সম্পত্তি বেহাতের উদ্দেশ্যে পরিচালনা কমিটিতে থাকা আরিফ হোসেনসহ কিছু ব্যক্তি জোরপূর্বক একক সিদ্ধান্ত বলে সন্ত্রাসী কায়দায় ইবাদতের স্থান এই মসজিদটি গত ২৫/০৯/২১ইং তারিখে জোরর্পূবক ভেঙ্গে ফেলেছে।

তেলাইকুড়ি জামে মসজিদের অর্থ,সম্পদ ও পুকুরের আয় আত্বসাতের জন্যে দাতা সদস্য সামশুল হক ও আহাকাম আলীর জাল স্বাক্ষরে সরকারকে বিবাদি করে নিজেরা বাদি হয়ে তারা একটি মোকদ্দমা আনয়ন করে,বিষয়টি আমরা ওয়ারিশগন জানতে পেরে আদালতে আবেদনের মাধ্যমে উক্ত মোকদ্দমার পক্ষভুক্ত হয়েছি। বিচারাধীন এই মোকদ্দমা নং ৩৯২/২১ অন্য।

পরবর্তীতে এ ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যানের পরামর্শক্রমে রেকর্ডভুক্ত মসজিদের অর্থদ্বারা যাতে অন্য কোনো মসজিদ নির্মান করতে না পারে, সে বিষয় উল্লেখ করে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি,সিআর ২১১/২২। কিন্তু তারপরেও অজ্ঞাত কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইনী কোনো পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। মসজিদটি কয়েক দফায় ভাংচুর ও লুটপাটের কারণে আমরা গ্রামের বাসিন্দারা মসজিদের অভাবে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারছি না। সর্বত্রই আতংক বিরাজ করছে কোথায়,কখন কে যেন খুন হয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে তেলাইকুড়ি জামে মসজিদের পুকুর, ৩২ বছরের অর্জিত আয়ের অর্থের হিসাব ও সম্পত্তি রক্ষায় সরকারের উধ্বর্তন মহলের সহযোগীতা চাই। সেই সাথে মসজিদ ভাংচুরের সাথে জড়িত ওই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি দাবী করছি। সংবাদ সম্মেলনে এসময় উপস্থিত ছিলেন,আহাকাম আলী,আজাহার আলী,আবু সাঈদ ও শহিদুল্লাহ বাবু প্রমুখ।