নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা চান পুলিশ সদস্যের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী

নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা চান পুলিশ সদস্যের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী

রংপুর

আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ পুলিশ বাহিনীর বেতার অপারেটর তাজরুল ইসলামের একতরফা তালাকপ্রাপ্ত প্রথম স্ত্রী রেনু বেগম পুলিশের আইজি ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন মহলের কাছে তার ও সন্তানদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং ন্যায় বিচার চেয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাজরুলের স্ত্রী মোসা. রেনু বেগম এই বিচার দাবী করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের পাকেরা গ্রামের পিতৃ মাতৃহীন রেনু বেগমের সাথে ১৯৯৫ সালে তার আপন চাচাতো ভাই পুলিশ বাহিনীর বেতার অপারেটর (কনস্টেবল নং ৫১৮) তাজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। এই বিয়ে তাজরুলের পরিবার মেনে না নিলে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। যৌতুকের দাবীতে স্ত্রী রেনু বেগমের উপর তাজরুলের শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এর ধারাবাহিকতায় ২০০২ সালে অন্তঃসত্ত্বা রেনু বেগমকে তার ভাইয়ের কাছে রেখে যান তাজরুল। সেখানে প্রথম সন্তানের জন্ম হয়। এব্যাপারে ২০০৬ সালে তাজরুলের বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করেন রেনু বেগম।

তাজরুলের বিরুদ্ধে মামলার কাগজপত্রসহ রেনু বেগম ঢাকা রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সশরীরে গিয়ে নানা অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে রাজশাহী রেঞ্জের ইন্সপেক্টর কয়েজ উদ্দিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মিমাংসা করে দেন। কিন্তু পরে তাজরুল সেই মিমাংসা অমান্য করে রেনু বেগমের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখেন। তার দাবী অনুযায়ী তাকে যৌতুক বাবদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন রেনু বেগম। এমতাবস্থায় তাদের দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত রেনু বেগমের জায়গা জমি নিজের নামে লিখে দেয়ার দাবি জানান তাজরুল ইসলাম। এতে রাজি না হলে ২০১৭ সালে ২৭ মে আগুনে পুড়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। অগ্নিদগ্ধ রেনু রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় মামলা হয়, কিন্তু পরবর্তীতে মামলা থেকে খালাস পান তাজরুল ইসলাম। এরপর একতরফাভাবে রেনু বেগমকে তালাক দেন স্বামী তাজরুল ইসলাম। দুই সন্তানকে নিয়ে রেনু বেগম ভাইয়ের বাড়িতে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছেন। আবারও পুলিশের বেতার সদর দপ্তরে স্বামী তাজরুলের বিরুদ্ধে অপকর্মের বিভিন্ন প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ করেন রেনু। তদন্তের দায়িত্ব পান ইন্সপেক্টর ডালিস মাহমুদ। চলতি বছরের ২২ মার্চ গাইবান্ধা সদর থানায় তদন্ত অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা ডালিস মামুদ বেতার অপারেটর তাজরুলের অন্যায় ও অপকর্ম ধামাচাপা দিতে অভিযোগকারী রেনু বেগমের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তাজরুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনে বেতার অপারেটর হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি তৃতীয় স্ত্রীর সাথে সংসার করছেন।

ন্যায় বিচারের জন্য রেনু বেগম পুলিশের আইজিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদুষ্টি কামনা করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তার দু সন্তান ছেলে তারন্য প্রধান ও মেয়ে তাজনিয়া আকতার ছিল। এব্যাপারে অভিযুক্ত তাজরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়। তিনি রেনু বেগমের করা সব অভিযোগ ও মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।