খানসামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ বছর ধরে বন্ধ এক্স-রে সেবা

খানসামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ত্রুটিপূর্ণ মেশিন সরবরাহ, ৫ বছর ধরে বন্ধ এক্স-রে সেবা

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এক্স-রে মেশিন কেনা হলেও ভালো মানের না হওয়ায় সেই মেশিনও অব্যবহৃত পড়ে আছে।আগের এক্স-রে মেশিনটি বিকল হয়ে পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সেবা। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বাড়তি খরচে বাহির থেকে নিতে হচ্ছে এক্স-রে সেবা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, রোগীদের রোগ নির্ণয়ের সুবিধার্থে ২০০৩ সালে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে বিভাগ চালু হয়। এরপর থেকেই প্রতিদিন ইনডোরের অন্তত সাত-আটজন রোগীর এক্স-রে করা হতো।

গত ২০১৭ সাল থেকে এক্সরে মেশিন বিকল হওয়ায় প্রায় পাঁচ বছর ধরে তা বন্ধ। পুনরায় এক্স-রে সেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে গত বছরে উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউজিডিপি) আওতায় বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে খানসামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩০ লাখ টাকায় ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনার ই-টেন্ডার হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যন্ত্রপাতি সরবরাহের কাজটি পায়।

পরে কার্যাদেশ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সেসব মালামাল হাসপাতালে সরবরাহ করে। তবে সরবরাহকৃত এক্স-রে মেশিনটি বারকোডবিহীন পুরনো এবং যন্ত্রটির অনেক জায়গায় দাগ ও মরিচা থাকার অভিযোগ ওঠে।

এ অভিযোগ ওঠার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা এলজিইডি বিভাগের মধ্যে বিষয়টি সুরাহা না হওয়ায় প্যাকেটবন্দি হয়ে আছে মেশিনটি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. শামসুদ্দোহা মুকুল বলেন, রোগীদের ভোগান্তি লাঘবে এক্স-রে মেশিন চালু করতে সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুর রহমান চৌধুরী বলেন, এ সমস্যা সমাধানের সঙ্গে নতুন এক্স-রে মেশিনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি চালাচালি চলছে। উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল তুলতে সরবরাহকৃত পুরনো যন্ত্রপাতি পরিবর্তনের কথাও জানানো হয়েছে।