স্টেজে পছন্দ সুমি মির্জার

স্টেজে পছন্দ সুমি মির্জার

বিনোদন

বর্তমান সময়ের প্রতিশ্রুতিশীল সংগীতশিল্পী সুমী মির্জা। ইতোমধ্যে ‘বিনোদিনী রাই’, ‘তুমি বন্ধু কৃষ্ণ হলে আমি হবো রাধা’, ‘নয়া দামান’ ও ‘নির্জন যমুনার কুলে’সহ বেশ কিছু গানের মাধ্যমে শ্রোতা হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। করোনা পরবর্তী সময়ে একের পর অনুষ্ঠান নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। এছাড়া দেশ-বিদেশে নিয়মিত বিভিন্ন স্টেজ শোও করছেন এই গায়িকা।

সুমি মির্জা সম্প্রতি কামরুজ্জামান রাব্বিকে নিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো কোনো পুরুষ গায়কের সঙ্গে ফোক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। তার সঙ্গে গেয়েছেন দুটি গান। এছাড়া নিজের লেখা ও সুরে মৌলিক গান গেয়েছেন। তবে এবারই প্রথম নয়, আগেও নিজের লেখা ও সুরে গান গেয়েছেন এই গায়িকা।

বর্তমানে মৌলিক গান নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই গায়িকা। ইতোমধ্যে অনেক কোম্পানির গান করেছেন। প্রায় প্রতিদিনই গানে কণ্ঠ দিচ্ছেন। কিছুদিনের মধ্যে তার দুইটা কাভার, আর নয়টি মৌলিক গান আসছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে সুমি মির্জার লেখা ‘বিনোদিনী রাই’ এবং ‘তুমি বন্ধু কৃষ্ণ হলে আমি হবো রাধা’ গান দুটো ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। ইতোমধ্যে আরেকটি মৌলিক গান কণ্ঠ দিয়েছেন এ সংগীতশিল্পী। গানের শিরোনাম ‘আমি রাধা তুমি কৃষ্ণ’। এই গানটি এপার-ওপার দুই বাংলা এবং প্রবাসী বাঙালি শ্রোতাদের মন জয় করবে বলে আশা করছেন তিনি।

স্টেজ পারফরম্যান্স নিয়ে সুমি জানান, স্টেজে পারফর্ম করতেই বেশি পছন্দ তার। যদিও একের পর এক স্টুডিও বেজড কাজ করছেন তিনি। তবে সম্প্রতি মৌলিক গানে বেশি জোর দিচ্ছেন। তার ভাষায়, মৌলিক গান নিজের একটা সম্পত্তির মতো, প্রত্যেক শিল্পীরই নিজস্ব কিছু থাকা উচিত। সুমী জানান, পংখীরাজ ঘোড়া নামে একটা গান করছেন। গানটি লিখেছেন ও সুর করেছেন শ্রদ্ধেয় গীতিকবি জাহাঙ্গীর রানার । ঈদের পরে গানটি ভিডিওসহ গ্লোবাল প্লাস ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হবে। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন মীর মাসুম এবং গানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন জাবের আহমেদ।

নিজের গায়কী ধরন নিয়ে সুমি জানান, গান গাওয়ার সময় কাউকে অনুসরণ করেন না। নিজের মতো করে ব্যতিক্রমী ভয়েস তৈরি করে গান গাওয়ার চেষ্টা করেন। এতে নিজের একটা শ্রোতা ও ফলোয়ার তৈরি হয়।

সুমি মির্জা লোকগান এবং খ্যাতিমান গুণীজনদের গান গাইতে পছন্দ করেন। রাধারমণ, লালন, হাসন রাজার গান তার পছন্দ। এই বিষয়ে তিনি বলেন, যত প্রজন্ম আসবে প্রত্যেক প্রজন্মই তাদের গান গাইবে। এ সব গানের মধ্য দিয়ে গুণী শিল্পীরা বেঁচে থাকবে বলেও আশা করেন তিনি। এছাড়া কাভার গান এবং প্রচুর মৌলিক গান গাওয়ার ইচ্ছাও আছে সুমির।

গানের হাতেখড়ি প্রসঙ্গে সুমি জানান,মায়ের মুখ থেকেই শুনেই তার গান শেখা শুরু। শুনে শুনে গান গাওয়ার আগ্রহটা বেড়েছে। তার মা একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। মা যখন কাজ করতেন, তখন তিনি গুনগুন করে গান গাইতেন। মায়ের মুখ থেকে শুনে সুমি গান শিখেছেন। পরবর্তীতে ওস্তাদ শ্রদ্ধেয় মনিন্দ্র রায়ের কাছ থেকে তালিম নিয়েছেন। এখনও তার কাছে ক্ল্যাসিকালের তালিম নেন বলে জানান সুমি।

আগামীতে ভালো ভালো গান করতে চাওয়ার আশা ব্যক্ত করে সুমি বলেন, আমি চাই,পরবর্তী প্রজন্ম যারা আসবে তারা যেন আমাদের গান গায়। সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাব সব সময়।

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও লক্ষ্য আছে সুমির। গানের পাশাপাশি ডিজাইনার হিসেবেও কাজ করছেন বলে জানান সুমি। মিউজিক ভিডিওগুলোতে নিজের ডিজাইন করা পোশাক ব্যবহার করেন সুমি মির্জা।