পার্বতীপুরে স্থাপিত সারের বাফার গোডাউন অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র

পার্বতীপুরে সারের বাফার গোডাউন অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ পার্বতীপুরে স্থাপিত সারের বাফার গোডাউন অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার পায়তারা চলছে। এটি সার্থক হলে সমূহ বিপদে পড়বে কৃষককুল।

জানা যায়, দিনাজপুরের পার্বতীপুরসহ এতদাঞ্চলের কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনা না করে একটি স্বার্থান্বেশ্বী মহল পার্বতীপুরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিসিআইসি আওতাধীন সারের বাফার গোডাউনটি অন্যত্রে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ষড়য়ন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে একটি দায়িত্বশীল সুত্র থেকে জানা গেছে।

এই অঞ্চলের কৃষকদের দোরগোড়ায় ইউরিয়া সার পৌছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৯৬ সালে ৭ একর জমির উপর ৭০ হাজার মেট্রিক টন সার ধারনের ক্ষমতা সম্পন্ন বাফার গোডাউন স্থাপন করা হয় পার্বতীপুরে। যেখান থেকে গোটা দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার সমগ্র উপজেলার সার ব্যবসায়ীগণ সার উত্তোলন করতেন ও কৃষকদের ইউরিয়া সারের সুবিধা হাতের মুঠোয় পৌছে দেওয়া হতো।

আজ রোববার বাফার গোডাউনে গিয়ে দেখা যায়, সমগ্র কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। সারি সারি দাড়িয়ে আছে ট্রাক সমূহ। ইতোমধ্যে ৭৫ জন ডিলার তাদের লেনদেন গুটিয়ে অন্যত্রে চলে গেছেন। বেকার হয়ে পড়েছে শতাধিকক কুলি ও মুঠেমজুর। সেই সাথে প্রায় ১০ জন আনসার কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এতে ভীষন আশঙ্কায় রয়েছেন পার্বতীপুর ও চিরিরবন্দর উপজেলার মাত্র ২২ জন ডিলার। ডিলার ও কৃষকদের আশঙ্কা অনতিবিলম্বে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পার্বতীপুর থেকে কৃষকদের দেয়া সার সুবিধা। পার্বতীপুর বাফার গোডাউন থেকে বাৎসরিক ৭০ থেকে ৮০ মেট্রিক টন সার সরবরাহ করা হয় এই অঞ্চলে।

এই বিষয়ে কৃষক ফজলুর রহমানের সাথে কথা হলে জানান, পার্বতীপুর বাফার গোডাউনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার সংবাদ শুনলে আমাদের গাঁ শিওরে উঠে। কারন দ্রুত সরবরাহসহ ভালো সার পাওয়ার সম্ভাবনা আমরা হারিয়ে ফেলছি। হয়তো ফের পূর্বের মত সার সংকটে পড়তে পারি।

সার ব্যবসায়ী ইউনিট নেতা ডিলার আতিয়ার রহমানের সাথে কথা হলে জানান, খুব শীঘ্রই পার্বতীপুরের পার্শ্ববর্তী থানা গুলোকে সমন্বয় করে এখানকার বাফার গোডাউনটি সচল রাখা না হলে নির্ঘাত বিপদের সম্মূখীন হবেন আমাদের কৃষক সমাজ।

বিষয়টি নিয়ে বাফার গোডাউন কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরাও শঙ্কিত, জানি না কি হতে যাচ্ছে। ট্রাক মালিক সমিতির নেতা জাহাঙ্গীর আলম বাবুরর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এতো বড় একটি স্থাপনা স্থবির হয়ে পড়লে দখলদারদের কবলে চলে যাবে বাফার গোডাউনের ভূমিসহ সকল অবকাঠামো।