রংপুরের পীরগঞ্জে তরমুজ চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়

রংপুরের পীরগঞ্জে তরমুজ চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়

রংপুর

তরমুজ চাষ করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়েই হাল ছাড়েনি মেহেদুল। রংপুরের পীরগঞ্জ রামনাথপুর ইউনিয়নের খেজমতপুর গ্রামের মৃত: সাদেক আলী মাস্টারের পুত্র ডিগ্রী পাস করে চাকরী না করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে কৃষি কাজে মনোযোগি হয়।

এযাবৎ উপজেলা কৃষি মেলায় বিভিন্ন ফসলের ব্যাতিক্রমি উৎপাদনের কারণে বেশ কয়েক বার পুরুষ্কার অর্জন করেছেন। গত ২০২১ সালে ৮ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে মেহেদুল। ফলনও বেশ ভালো হয়েছিলো।

বারী জাতের তরমুজের বীজ ক্রয় করে সব মিলিয়ে ২ লক্ষ টাকা খরচ করেন। প্রথমবার তরমুজ জমি থকে তুলে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে সব টাকা মিটিয়ে ২ লক্ষ টাকা ঘরে তুলতে সক্ষম হয়।

এর পরেও জমিতে প্রচুর তরমুজ অবশিষ্ট থাকে। প্রথমবার বিক্রি করার ১৫/১৬ দিন পর পুনরায় তরমুজ বিক্রি করার সময় হলে দেশে ভয়াবহ করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সরকার কঠোর লকডাউন ঘোষনা করেন।

তরমুজ পচনশীল ফল উপযুক্ত সময়ের ৫/৬ দিনের মধ্যে ফসল না উঠালে তাতে পচন ধরে যায়। বিধি বাম। একাধারে ৩৫ দিন কঠোর লগডাউনের সময় সব তরমুজ জমিতেই পঁচে যায়। এর পরেও হাল ছাড়েনি মেহেদুল।

চলতি মৌসুমে ফালগুন মাসের ১৫ তারিখে আলু উত্তোলন করে ৭/৮ ফুট দুরে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বীজ ক্রয় করে গোবর, টিএসপি, এমওপি ও ইউরিয়া সার প্রয়োগ করে ৮ বিঘা জমিতে ৫ হাজার চারা রোপন করে।

বর্তমানে তরমুজের ফুল ও ফল আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বৈশাখ মাসের ২৫ তারিখের মধ্যেই তরমুজ আহরণ ও বিক্রি শুরু হবে।

তবে তরমুজের গাছে ছত্রাক নাশক কিছু একটা দেখার পর উপজেলা কৃষি দপ্তরের পরামর্শে কিটনাশক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে ৬ থেকে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা তরমুজ বিক্রির আশা করছেন মেহেদুলের।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাদেকুজ্জামান সরকার বলেন “তরমুজ উচ্চ ফলনশীলএকটি ফসল, অল্প সময়ের মধ্যে এই ফসল উৎপাদন করে কৃষকেরা লাভবান হতে পারেন”।