রংপুরে জমে উঠেছে ইফতার বাজার

রংপুর

মহামারী করোনার প্রকোপে রংপুরে বাজারে চিরচেনা ইফতার আয়োজন চোখে পড়েনি বিগত দুই বছর। এবার পবিত্র রমজানের শুরুতেই জমে উঠেছে রংপুর নগরীসহ জেলার বিভিন্নস্থানে জমে উঠেছে ইফতার বাজার। প্রতিটি ইফতারের দোকানে দেখা গেছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। তবে এবার রমজানে রংপুরের মানুষের ইফতারের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছে পুদিনার চপ, শাহী জিলাপী আর ছানার পোলাও।

মঙ্গলবার সরেজমিনে রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়, পায়রা চত্বর, সিটি বাজার, কাছারি বাজার, ধাপ মেডিকেল মোড়, গ্র্যান্ড হোটেল মোড়, শাপলা চত্বর, লালবাগ, মর্ডাণ মোড়, মাহিগঞ্জ ও সাতমাথাসহ নগরী এবং জেলার বিভিন্ন স্থানে ইফতার সামগ্রীর দোকানে ভিড় দেখা গেছে। ক্রেতারা তাদের পছন্দ মতো ইফতার কিনছেন। এই চিত্র পবিত্র রমজানের শুরু থেকে দেখা যাচ্ছে।

এছাড়াও রংপুর নগরীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রামগঞ্জের হাট-বাজারে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে সড়কের পাশে অস্থায়ী দোকানে বিক্রি হতে দেখা গেছে ইফতার সামগ্রী। পবিত্র রমজানকে ঘিরে অনেকেই এবার ভ্রাম্যমান ইফতারের দোকান দিয়েছেন।

সরেজমিনে নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়ে পলাশ হোটেল দেখা গেছে, ক্রেতারা পুদিনার চপ কিনছেন বেশি। প্রতি পিস চপ বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়। এ ছাড়া বিফ কাটিকাবাব ১২০ টাকা, চিকেন তান্দুরি ৮০ টাকা, মটনকাটি কাবাব ১২০ টাকা, শাহী জিলাপি ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর ছানার পোলাও কিনতে ক্রেতাদের কেজি প্রতি গুণতে হচ্ছে ২০০ টাকা। নগরীর জিএল রায় রোডের পাবনা হোটেল, স্বাদ কনফেকশনারী, জাহাজ কোম্পানি মোড়ের বৈশাখী হোটেল, পলক হোটেল, সেন্ট্রাল রোডের ফালগুনী হোটেল ও কাছারি বাজার এলাকার মহুয়া হোটেল, মৌবনসহ বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরায় বুট, বুন্দিয়া, বেগুনি, আলুর চপ, জিলাপী, কাবাব, ডিম চপ, দই বড়া, মিষ্টি, হালিম, সবজি চপসহ অন্যান্য ইফতার সামগ্রীর পাশাপাশি পুদিনাচপসহ আরও বেশ কয়েক প্রকার চপ রোজাদারদের আর্কষণ করছে।

নগরীর পলাশ হোটেল এ- রেস্টুরেন্টের মালিক সাজু মিয়া বলেন, ‘করোনা দুই বছর ব্যবসা হয়নি। এবছরও আশানুরূপ ব্যবসা হচ্ছে না। প্রতিটি পণ্যের দাম যে হারে বেড়েছে সেই হারে ইফতারের দাম বাড়েনি। তার পরেও গত বছরের মত ক্রেতা নেই।’ তিনি আরও জানান, তার দোকানের পুদিনার চপ, শাহী জিলাপী ও বিভিন্ন প্রকার কাবাব সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়ে কথা হয় নুরুজ্জামান রিজু ও মনিরুল ইসলাম মিন্টুসহ কয়েকজন ক্রেতার সাথে। তারা বলেন, গত দুই বছর বাহিরের ইফতার কেনা হয়নি। এবার কিনতে পারছি। প্রতিদিনই ইফতার কিনে পরিবারসহ ইফতার করছি। তারা বলেন, পুদিনা পাতায় নানা ধরনের ওষুধি গুণ থাকায় এবার ইফতারের জন্য পুদিনার চপ নিয়মিত কিনছি। এছাড়াও শাহী জিলাপী ও ছানার পোলাও পছন্দের তালিকায় রাখছি।

এদিকে রমজান শুরু থেকেই ফলের প্রতিও মানুষের আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। খেজুর, তরমুজ, মালটা, কলা, আনারস, আপেলের চাহিদা ছিল বেশি। খেজুর, আপেল, মালটার দাম অন্যান্য সময়ের মতো থাকলেও তরমুজ এবং কলার দামে আগের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়াও লেবু, শশা ও ফলের চাহিদা বেশি থাকায় এসব দোকানে বেশি ভিড় দেখা যায়। তবে চড়া দাম থাকায় ক্রেতারা অসন্তুষ্ট। ক্রেতারা বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। ছবিঃ সংগ্রহিত