খানসামার আলু যাচ্ছে বিদেশে, খুশি কৃষকরা

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলন হলেও দাম কম থাকায় দুশ্চিন্তায় ছিলেন চাষীরা। তবে সম্প্রতি বাজারে ভালো দাম পাওয়া ও ৩৪৪৮ মেট্রিক টন আলু বিদেশে রপ্তানি হওয়ায় খুশি হয়েছে কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ৬৬ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে। যার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৪৪৮ মেট্রিক টন আলু বিদেশে রপ্তানি হবে। মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে সাগিতা, গ্রানুলা, ডায়মন্ড, কুমরিকা, সার্পোমিরা, সেভেন জাতের আলু রপ্তানির কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।

উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের কৃষক আঃ আলীম, আইনুল হক, একরামুল হক, আতিকুর রহমান টুকু বিদেশে আলু রপ্তানি করেছেন। তারা বলেন, জমি থেকে প্রতি কেজি আলু ১২-১৪ টাকা দরে বিক্রি করছেন চাষিরা। যা গত বছর এর অর্ধেক ছিল। বিদেশে আলু রপ্তানি করতে পেরে তারা অনেক খুশি হয়েছে।

অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, উপজেলা থেকে বাণিজ্যিকভাবে বিদেশে আলু রপ্তানিতে আশার আলো দেখছেন কৃষকেরা। এ ছাড়া স্থানীয় বাজারেও দাম বেশ ভালো। জমি থেকে প্রতি কেজি আলু ১২ থেকে ১৩ টাকা দরে বিক্রি করছেন কৃষকেরা, যা কিছুদিন আগেও ৭ থেকে ৮ টাকা ছিল। এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় দাম পেয়ে কৃষকেরা বেশ খুশি। আমরাও চাই কৃষকেরা যেন আলু চাষ করে বেশি লাভবান হতে পারেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বাসুদেব রায় বলেন, রপ্তানিযোগ্য আলুর চাষ দিন দিন বাড়ছে। আগামী বছর এর পরিমাণ দ্বিগুণ হবে। আমরা সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। এখন থেকে আমাদের নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিযোগ্য আলু চাষাবাদ করতে হবে। এ জন্য কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক কলাকৌশল বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উক্ত প্রকল্পের আওতায় রপ্তানিযোগ্য জাতের আলুর চাষাবাদ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।