তিস্তায় পানি বেড়ে উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

রংপুর

এই ভরা চৈত্র মাসে হঠাৎ করেই বেড়েছে তিস্তা নদীর পানি। তিস্তার ডালিয়া ব্যারেজের উজানে ভারত এবং বাংলাদেশ অংশে বৃষ্টি হওয়ায় পানি বেড়েছে। এতে তিস্তা অববাহিকার চরাঞ্চলের উঠতি ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

এরই মধ্যে তিস্তা ব্যারেজের ৬টি জলকপাট খুলে দেওয়ায় ভাটিতে পানি ঢুকে কৃষকের উৎপাদিত ফসল তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, পানি কমতে শুরু করেছে দুই-একদিনের মধ্যে পানি কমে যাবে।

তিস্তায় ৪ দিন ধরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা বাড়ার সাথে সাথে এই পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে তিস্তার ভাটিতে অবস্থিত কাউনিয়া উপজেলার চর এলাকার উঠতি ফসল, কাউন, মরিচ-পেঁয়াজ, মিষ্টি কুমড়া, গম, ধান, তামাক ও ভুট্টাসহ বিস্তীর্ণ চরের দেড় হাজার একর জমির ফসল পানিতে ডুবে নষ্ট হচ্ছে। ফলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। তারা এই সংকট কিভাবে কাটিয়ে উঠবেন তা ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছেন না।

হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে তিস্তা অববাহিকার রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা উপজেলার চরাঞ্চলের নিচু এলাকায় আবাদ করা ভুট্টা, বাদাম, মিষ্টিকুমড়া, লাউসহ বিভিন্ন ফসল তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকরা শঙ্কিত হয়ে উঠেছেন।

কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ঢুষমারার চর এলাকার চাষি আব্দুর রশিদ বলেন, চৈত্র মাসে তিস্তার পানি কি কারণে হঠাৎ করে বাড়লো তার সুনির্দিষ্ট কারণ আমরা খুঁজে পাই না। আমাদের এই মোক্ষম সময়ে হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অশ্রুসিক্ত রশিদ জানান, পানি বৃদ্ধিতে তার প্রায় ছয় একর আবাদি জমির ধান, মিষ্টিকুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন ও বাদাম নষ্ট হয়ে গেছে। আব্দুর রশিদের মত অনেক কৃষকের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

কাউনিয়া উপজেলা কৃষি শাহানাজ পারভিন বলেন, তিস্তার চরাঞ্চলে ৪.৫শ হেক্টর জমিতে কৃষকরা সেচ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলান। তিস্তায় পানি বাড়ায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে উপজেলায় এখনো ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। সেই তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের সহায়তা প্রদানের চেষ্টা করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব বলেন, গত ৪ দিনে তিস্তায় ৮৩ সেন্টিমিটার বা আড়াইফুট পানি বেড়েছিলো, সেটি এখন কমতে শুরু করেছে। আর কোনো বৃষ্টিপাত না হলে দুই-তিন দিনের মধ্যে এ পানি নেমে যাবে।