স্ত্রীর সাথে বিরোধের জেরে দিনাজপুরে স্কুল শিক্ষকের আত্মহত্যা

দিনাজপুর

দিনাজপুর সংবাদাতাঃ স্ত্রীর সাথে দীর্ঘদিন পারিবারিক বিরোধের জেরে দিনাজপুর সদর উপজেলায় গলায় দড়ি পেচিয়ে রাসেল বাবু (২৭) নামে এক স্কুল শিক্ষক আত্মহত্যা করেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টায় উপজেলার কমলপুর ইউনিয়নের দাইনুর মুসুরাপাড়ায় নিজ বাড়িতে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে সে।

মৃত রাসেল বাবু সদর উপজেলার কমলপুর ইউনিয়নের দাইনুর মুসুরাপাড়ার জবেদ আলী ও নুরছাবা বেগমের ছোট ছেলে। পেশায় চেরাডাঙ্গী হাই স্কুলের শরীর চর্চা শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট বলে জানিয়েছে মৃতের মেঝো ভাই সাইফুল ইসলাম।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে ঠাকুরগাওয়ের মেয়ে রূপার সাথে বিয়ে হয় রাসেল বাবুর। তাদের ঘরে প্রায় ১১ মাসের একটি ছোট্ট মেয়ে শিশুও রয়েছে। কিন্তু কিছুদিন যাবত তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জেরে কয়েকদিন আগে স্ত্রী রূপা একতরফা তালাক দিয়ে মেয়েকে নিয়ে দিনাজপুর শহরে ভাড়া বাসায় ওঠে। এমনকি কোর্টে যৌতুক ও নির্যাতন মামলায় ঝুলিয়ে রাখে রাসেল বাবুকে।

গতকাল সোমবার (৪ এপ্রিল) কোর্ট থেকে জামিন নেয়। এরপর বাচ্চা মেয়েটির সাথে দেখা করতে গেলে তাকে দেখতে না পেরে বাড়িতে ফিরে আসে সে। এরপর থেকে বিষন্নতায় ভুগছিলেন রাসেল। সেই রাতেই শোবার ঘরের পাশে মাটির ঘরে গলায় দড়ি পেচিয়ে আত্মহতা করে সে। এই মৃত্যুর জন্য রাসেলের পরিবার তার স্ত্রী রূপাকে দোষারোপ করছেন। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করবেন বলে জানিয়েছে রাসেলের মেঝো ভাই সাইফুল ইসলাম।

আত্মহত্যার পর দেখতে তার স্ত্রী রূপা বাড়িতে বা হাসপাতালে দেখতে আসেনি বলে পরিবার সূত্র জানিয়েছে। স্ত্রী রূপা দিনাজপুর সদর হাসপাতালের পরিবার ও পরিকল্পনা অফিসে চাকুরী করে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় মৃত রাসেল বাবুর স্ত্রী রূপার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানার এসআই নুর আলম জানান, স্ত্রীর সাথে পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে রাসেল বাবু। প্রাথমিকভাবে সুরুতহাল রিপোর্টে গলায় দড়ির দাগ ছাড়া শরীরের অন্য কোথাও চিহৃ পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। এছাড়াও ময়না তদন্তের জন্য এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে তার মরদেহ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে মরদেহ তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।