একরামুলর হক বেলাল,পার্বতীপুর(দিনাজপুর)প্রতিনিধিঃ পার্বতীপুরের বড় রামচন্দ্রপুর আবাসন বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মোমিনুল মন্ডল কর্তৃক প্রায় ৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উটেছে। সমিতির সদস্যদের চাপের মুখে চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে কিছু টাকা উদ্ধার হলেও এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাধুরাম রবি দাসের কোন মাথা বেথা নেই। আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রায় ৭০/৮০ জন আবাসনবাসী উপজেলা নির্বাহী আফিসারকে অভিযোগ প্রদান করেছেন।

জানা যায়, পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের বড় রামচন্দ্রপুর এলাকার ৫টি আবাসন প্রকল্পের ১৩৪ জন সদস্য নিয়ে গত ২১ মে ২০০৫ সালে পার্বতীপুর উপজেলার সমবায় অফিসের ৮২ নম্বর নিবন্ধত সমিতির সভাপতি মোমিনুল মন্ডল ও বাফলাই মার্ডিকে সম্পাদক করে পরিচালিত হয়ে আসছে।

৫টি আবাসন প্রকল্পের ২২০টি পরিবারের মধ্যে ১৩৩ জন পুরুষ ও মহিলা নিয়ে  সমিতির সভাপতি অত্যন্ত কৌশলে ক্ষুদ ঋন প্রকল্প নামে একটি আলাদা সমিতি খুলে টাকা আতœসাতের ফাঁদ তৈরী করেন। এ বাদেও সভাপতি আবাসন প্রকল্পের ঘর ও চাকুরি দেয়ার নাম করে এলাকার অনেক লোকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও সভাপতি সমিতির সদস্যদের নামে ঋন তুলে নিজেই আতœসাত করেছে বলে অনেক সদস্যই অভিযোগ করে বলেন। সভাপতি মোমিনুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম,দুর্নীতি,সমিতির টাকা আত্মসাতের আভিযোগে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে এলাকার চেয়ারম্যান মতিন গত ৮ জুন রবিবার বড় রামচন্দ্রপুর গিজ্জা ঘরে আবাসন প্রকল্পের লোক-জনসহ ৪/৫শ এলাকার জনসাধারন নিয়ে এক বৈঠক বসে। বৈঠকে সভাপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম,দুর্নীতি,সমিতি ও ক্ষুদ্র সমিতির নামে টাকা আতœসাতের আভিযোগে প্রমানিত হয় বলে চেয়ারম্যার আঃ মতিন এ প্রতিনিধিকে বলেন। এ নিয়ে সমিতির সভাপতি মোমিনুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয়।

এদিকে সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পার্বতীপুর উপজেলা সমবায় অফিসের সহকারী পরিদর্শক সাধুরাম রবি দাস গতকাল সোমবার বিকেলে বলেন, ২০০৬-৭ অর্থ বছরে সমিতির ১৩৩ জন সদস্যদের মধ্যে ১১৯ জনকে ৮ লাখ ৯২ হাজার ৫শ টাকা ঋন দেয়া হয়েছিল এর মধ্যে ৩ লাখ ৫ হাজার ২৫২ টাকা আদায় হয়েছে। এখনো বাকি রয়েছে ৫ লাখ ৮৭ হাজার ২৪৮ টাকা। এর পরও ১২ সালে ৬ জন সদস্যকে আবারও ৩৩ হাজার টাকা ঋন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে গত ০৬ সালে ১৫ নভেম্বর দিলরুবা বেগম ও গত ১২ সালে ৪ এপ্রিল জেলা সমবায় দপ্তরের পরির্দশক মফিজুর রহমান সমিতি হিসাব-নিকাশ তদন্ত করেন। তদন্ত কালে গত গত ২ মার্চ ০৮ সালের ৫৬/১(৪) স্বারকে পার্বতীপুর উপজেলার সমবায় অফিসার দিলরুবা বেগম স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে আবাসন বহুমুখী সমবায় সমিতির পুকুরে মাছ চাষ ও বিত্রি“র টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।

বড় রামচন্দ্রপুর আবাসন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ এর সভাপতি মোমিনুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম,দুর্নীতি ও টাকা আত্মসাতের আভিযোগ সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পার্বতীপুর উপজেলা সমবায় অফিসের সহকারী পরিদর্শক সাধুরাম রবি দাস জানলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি বলে সমিতির অন্যান্য সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন। তারা আরো বলেন, চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে   ঘটনা গুলি নিরসন না হলে এলাকায় রক্তক্ষয়ি সংর্ঘষের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ নিয়ে সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাধুরাম রবি দাসের কোন মাথা বেথা দেখা গেল না। তিনি সমিতির সভাপতির উপর দিয়ে কিছু বলতে পারছেন না।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রায় ৭০/৮০ জন ক্ষতিগ্রস্ত আবাসনবাসী নারী-পুরুষ সভাপতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম,দুর্নীতি ও টাকা আতœসাতের আভিযোগে উপজেলা নির্বাহী আফিসারকে অভিযোগ প্রদান করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য