বীরগঞ্জে দখলে র্জজরিত গোলাপগঞ্জ হাটমোঃ মীর কাসেম লালু, বীরগঞ্জে (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ বীরগঞ্জে সমস্যায় র্জজরিত গোলাপগঞ্জ হাট প্রভাবশালীদের দখলের কারনে জায়গা অভাবে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

উপজেলার মরিচা, নিজপাড়া ও মোহনপুর সহ ৩টি ইউনিয়নের সীমানায় কয়েক একর জমিতে গোলাপগঞ্জ হাট বসে প্রতি সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবার, ৩টি ইউনিয়নের সীমানায় হাটটি হওয়ার কারনে এই হাটের উন্নয়নমূলক কাজ চেয়ারম্যানদের টানাটনির কারনে হচ্ছে না। প্রশাসন ৩৫ লক্ষ টাকায় চলতি বছরে দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইজারা প্রদান করে। এই হাটে গরু, মহিষ, ঘোড়া, ছাগল ও ভেড়াসহ পশুর হাট, ধান, চাউল, গম, ভূট্টা, পাট, সরিষা, কালাই, শাক, সব্জি হাঁস, মুরগী সহ সকল কৃষি পণ্য, কাপর, চোপর প্রশাধনী সমগী, মাছ, মাংস সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনা বেচা হয়। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে যে, পরিকল্পিত ও সারিবদ্ধভাবে দোকানপাঠ না বসানোর কারনে পর্যাপ্ত হাটের জায়গা থাকা সত্বেও শতশত ব্যবসায়ী জায়গা অভাবে ব্যবসা করতে পারছে না।

এক শ্রেণীর প্রভাবশালীর দখলে রয়েছে হাটের অনেক জমি। তারা পাকা ও আধাপাকা শতাধিক গুদামঘর তৈরী করে লক্ষলক্ষ টাকায় গুদাম বেচা কেনা করছে ও ভাড়া দিয়েও মুনাফা লুটছে। এ ছাড়াও সম্প্রতি হাটের ব্যবহারী এক একর জমি পত্তন প্রদান করা হয়েছে। হাট চান্দীনায় সুইপারের কলোনীতে ৬-৭টি সহ ১৪-১৫টি বসত বাড়ি রয়েছে । পরিকল্পিত ও সারিবদ্ধভাবে দোকানপাঠ না বসানোর কারনে আগত ব্যবসায়ীরা বীরগঞ্জ-গড়েয়াহাট ও কবিরাজহাট-জিয়া সেতু রাস্তার উভয় পার্শ্বে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে বেচা বিক্রি করে। ফলে সাধারন হাটুরে (ক্রেতা-বিক্রেতা) ও যান-বাহন চলাচলে বিঘœ ঘটে। শুস্ক মৌসুমে রৌদে পুড়ে ও বর্ষাকালে বৃষ্টি নামলেই ব্যবসা গুটিয়ে চলে যেতে হয়। হাটের অভ্যান্তরে পানি নিষ্কাসনের ব্যবস্থা না থাকার কারনে সামান্য বৃষ্টিতেই হাটু পানি জমে। কাঁদা পনিতেই বেচা-কেনা করতে হয় জনসাধারনকে। ছোট ছোট পথ দিয়ে ঝুকিপূর্ণ ভাবে চলাচল করতে হয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের।

ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান ধান প্রতি বস্তা ১৪/-,প্রতিটি গরু-মহিষ-ঘেড়া ২শত টাকা, ছগল-ভেড়া ৭৫/-, দোকান ১২/-, তরী-তরকারী ৭/-টাকাসহ দোকান বিবেচনায় বিভিন্ন রেটে টোল আদায় করা হয়। হাটের অভ্যান্তরে স্থায়ী (কাচা-পাকা) দোকান আছে ৪শতটি কিন্তু টোল দেয় মাত্র ১শতটি। ৩শতটি দোকান টোল দেয় না। হাটের জমিতে বাড়িঘর, গুদাম নির্মান ও পত্তন প্রদান করার কারনে ১৫ বছর ধরে ইজারাদার গোলাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সপ্তাহে দুই দিন ভাড়া নিয়ে প্রতি বছর ৮৫ হাজার টাকা প্রদান করছে। কিছু কিছু ড্রেন থাকলে হাটের জমে থাকা পানি নিস্কাসনে ক্ষেত মালিক (কৃষক) ফসলের মাঠে যেতে দেয়না। হাটের পানি ফসলের মাঠে ফেলার কারনে প্রতি বছর ২৫-৩০ হাজার টাকা উপরী প্রদান করতে হচ্ছে ইজারাদারকে। র্দীঘ দিনের প্রসিদ্ধ এই হাটে ১৫ থেকে ২০ হাজার ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে সরকারীভাবে বা ইজারদারের নিজস্ব উদ্যোগে হাটে পানি সরবরাহ বা মল-মুত্র ত্যাগের কোন টয়লেট ব্যবস্থা নাই। ফলে বিপাকে পড়তে হয় ক্রেতা-বিক্রেতারদের।

এ ব্যাপারে হাটের ইজারদার নওসের আলী গেদার সাথে সাক্ষাত করা হলে উল্লেখিত সংবাদের সত্যতা স্বীকার করে জানান ১০-১২ বছর আগে একটি টিউবওয়েল ও ল্যট্রিন স্থাপন করা হয়েছিল কিন্তু তা অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন এক সময় এই হাটে দশ হাজার মন ধান ক্রয়-বিক্রয় হতো কিন্তু ধানহাটির ফাকা জায়গা প্রভাবশালীদের জবর দখলে চলে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা হাটবারে হাটের বাইরে বৈরাগী বাজার, মাথানারী মোড়, খোলাকুটি বাজার, চৌদ্দহাত কালি বাজার ও মাষ্টারের মোড় এলাকার রাস্তায় কাটা টাঙ্গীয়ে হাটে আসা ধান কিনে টোল ফাঁকি দিচ্ছে। যার কারনে এখন এক হাজান মন ধান আমদানী হচ্ছে না। মরিচা  ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বাদশা জানান  হাটের সকল সমস্যার সমাধান করে যত তারাতাড়ি সম্ভব গোলাপগঞ্জ হাটকে একটি মডেলহাটে রূপান্তরিত করা হবে। গোলাপগঞ্জ হাটের ভুক্তভোগি ও সচেতন মহল প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে পরিকল্পিত ও সারিবদ্ধভাবে দোকানপাঠ বসানোর জোর দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য