সুপার কাপের ফাইনালে রিয়াল

সুপার কাপের ফাইনালে রিয়াল

খেলা

তারুণ্য নির্ভর বার্সেলোনার বিপক্ষে রোমাঞ্চকর এক জয় নিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। এনিয়ে টানা পঞ্চম এল ক্লাসিকো জয় করলো গ্যালাকটিকোরা। তবে এই ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করে বার্সেলোনা অন্তত এটা প্রমান করেছে যে ক্লাবের পুন:জাগরনের বিষয়টি কেন তারা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে।

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচটিতে রিয়াল অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে জয়ী হয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। সাম্প্রতিক সময়ে এল ক্লাসিকোতে রিয়ালের একচ্ছত্র আধিপত্যে কালও ধারনা করা হয়েছিল তারাই পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রন নিবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ম্যাচ জিততে গ্যালাকটিকোদের বেশ ঘাম ঝড়াতে হয়েছে। ২০১০ সালে ক্যাম্প ন্যু’তে পেপ গার্দিওলার অধীনে বার্সেলোনা যেভাবে ৫-০ গোলে রিয়ালকে বিধ্বস্ত করেছিল সেই ধরনের আধিপত্য এখন আর খুব একটা দেখা যায়না।

রিয়ালের আক্রমনভাগের দুই কান্ডারি ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও করিম বেনজেমা আবারো গোল পেয়েছেন। অপর দিকে দুই মাস পর ইনজুরি কাটিয়ে বদলী বেঞ্চ থেকে মাঠে নেমেই নিজেকে আবারো প্রমান করেছেন আনসু ফাতি। লা লিগা টেবিলের শীর্ষে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের থেকে ১৭ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা তারুন্য নির্ভর বার্সেলোনা রিয়াদের কিং ফাহাদ স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই বিস্ময়করভাবে রিয়ালকে চেপে ধরে। দুইবার পিছিয়ে পড়েও যেভাবে তারা গোল শোধ করে লড়াইয়ে ফিরে এসেছিল তাতে ফাইনালে পৌঁছানোর পথে কাতালান জায়ান্টরাই ফেবারিট ছিল।

বার্সা কোচ জাভি হার্নান্দেজ বলেছেন এই ম্যাচটি তার দলের জন্য একটি পরীক্ষা ছিল। যেহেতু ম্যাচটিতে তারা হেরে গেছে তাই এখনো পাস করার প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়নি। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনা একাদশে যারা ছিলেন সবাই বয়সে তরুন। পেড্রি (১৯), এজ আবদে (২০), ফাতি (১৯), নিকো গঞ্জালেজ (২০), রোনাল্ড আরাউজু (২২), গাভি (১৭), ফেরাস তোরেসকে (২১) নিয়ে বার্সা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতেই পারে।

মাদ্রিদ শিবিরে একমাত্র তরুন হিসেবে ব্রাজিলিয়ান ভিনিসিয়াস আরো একবার প্রমান করেছেন ভবিষ্যতে তাকে নিয়ে যেকোন ক্লাবকে আলাদা করে চিন্তা করতেই হবে।

বার্সেলোনার হয়ে লুক ডি জং প্রথমে সমতা আনার পর বেনজেমার গোল পরিশোধ করেন ফাতি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ফেডে ভালভার্দের গোলে রিয়ালের জয় নিশ্চিত হয়। শুরু থেকে অবশ্য বার্সেলোনাই আধিপত্য দেখিয়েছে। বিশেষ করে ইনজুরি কাটিয়ে ফাতি, পেড্রি, ফ্রেংকি ডি জং ও আরাউজোর মত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়রা দলে ফেরায় আত্মবিশ্বাসও ফিরে পেয়েছিল কাতালানরা। এই ম্যাচের মাধ্যমে সিটি থেকে আসার তোরেসের ১৫ দিন পর অভিষেক হয়েছে।

কোভিড নেগেটিভ হয়ে শেষ পর্যন্ত লা লিগার রেজিষ্ট্রেশনও সম্পূর্ণ হয়েছে তার। আক্রমনভাগে অবশ্য রিয়াল শুরু থেকে কিছুটা আগ্রাসী ছিল। সার্জিও বাসকুয়েটসের ভুলে লুকা মড্রিচের পাস থেকে বেনজেমা বল নিয়ে ভিনিসিয়াসের দিকে বাড়িয়ে দেন। ২৫ মিনিটে দারুন এক গোলে রিয়ালকে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়াস। বিরতির চার মিনিট আগে ওসমানে ডেম্বেলের ক্রস থেকে এডার মিলিটাও ক্লিয়াস করতে ব্যর্থ হলে সেই সুযোগে ডি জং সমতা ফেরান।

বিরতির পর বার্সেলোনার বদলী বেঞ্চ থেকে মাঠে নামেন পেড্রি ও আবদে। মাঠে নেমেই পেড্রির একটি শক্তিশালী শট পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ডি জংয়ের স্থানে মাঠে নামা ফাতি এরপর বার্সেলোনার আক্রমনের প্রান ফিরিয়ে দেন।

ভিনিসিয়াসের নিখুঁত পাসে বেনজেমা বাম পায়ের জোড়ালো শট পোস্টে লেগে ফেরত আসে। কিন্তু ৭২ মিনিটে আর ভুল করেননি ফরাসি এই তারকা। ফারলান্ড মেন্ডি সহায়তায় মার্ক-আন্দ্রে টার স্টেগানকে পরাস্ত করে আবারো রিয়ালকে এগিয়ে দেন বেনজেমা। ম্যাচ শেষের সাত মিনিট আগে জোর্দি আলকাস ক্রসে ফাতির হেডে দারুনভাবে লড়াইয়ে ফিরে আসে বার্সেলোনা। ম্যাচের বাকি সময়টা বার্সেলোনাই ভাল খেলেছে। অতিরিক্ত সময়ে অবশ্য ম্যাচ বাঁচাতে পারেনি কাতালানরা। রডরিগোর পুল-ব্যাকে দারুন এক গোলে রিয়ালকে ফাইনাল উপহার দেন ভালভার্দে।