ফসলের লাভজনক দাম ও পল্লী বিদ্যুতের অনিয়ম-হয়রাণীবন্ধসহ অন্যান্য দাবীতে কৃষক সমিতির স্বারকলিপি প্রদানজিন্নাত হোসেনঃ ফসলের লাভজনক দাম ও পল্লী বিদ্যুতের অনিয়ম-হয়রাণীবন্ধসহ অন্যান্য দাবীতে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি দিনাজপুর জেলা কমিটির উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ৯ দফা দাবী সম্বলিত একটি স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।
১ জুন রোববার প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি গ্রহন করেন জেলা প্রশাসক আহমদ শামীম আল রাজী। কৃষক সমিতির জেলা সভাপতি বদিউজ্জামান বাদলের নেতৃত্বে উক্ত স্বারকলিপি প্রদানে উপস্থিত ছিলেন জেলা সাধারণ সম্পাদক দয়ারাম রায়, জেলা কমিটির  সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হাসান সিদ্দিকী, ডাঃ গোকুল চন্দ্র রায়, সবিতা রাণী রায়, আবেদ হোসেন, তাজুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতবৃন্দ।

প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরিত  স্মারকলিপিতে বলা হয়  ৬৮ হাজার গ্রাম বাংলার প্রাণ হচ্ছে কৃষক। সরকারের হিসাব মতে দেশে ১ কোটি ৮২ লাখ কৃষক পরিবার রয়েছে। অধিকাংশ কৃষকই ক্ষুদ্র কৃষক। শতকরা ৮৮.৪৮ জন ২.৪৯ একর বা তার কম জমির মালিক। সরকারী হিসাব অনুযয়ী মোট শ্রম শক্তির ৪৮.১ শতাংশ কৃষি কাজে প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত। পরোক্ষভাবে এই সংখ্যাটি আরো অনেক বেশি হবে। আমাদের দেশে খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্নতা অর্জন পুরোপুরি কৃষকদেরই আবদান।

ফসলের লাভজনক দাম পাওয়ায় কৃষি ও কৃষকের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। এই সংকটপুর্ণ অবস্থা থেকে কৃষককে মুক্ত করার জন্য ধানসহ সকল ফসলের লাভজনক মুল্য কৃষককে দিতে হবে এবং খোদ কৃষকের কাছে সরকারী উদ্যোগে ধানসহ অন্যান্য কৃষি পন্য ক্রয় করতে হবে।

কৃষকের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনার জন্য বিদ্যুৎ, ডিজেল, সার, কীটনাশকসহ সকল কৃষি উপকরনের দাম কমাতে হবে। অনেক হাট বাজারে ইজারাদার তাদের ইচ্ছামত খাজনা আদায় করে থাকেন। অবিলম্বে হাট বাজারগুলোতে সরকারী খাজনার রেট  টাঙ্গিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পল্লী বিদ্যুতের দূর্ণীতি-অনিয়ম-হয়রানী বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শ্যলো মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগে পল্লী বিদ্যুৎ অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ দুর্নীতি-হয়রাণীতে কৃষক জর্জরিত। তাই কৃষি ও কৃষকের অস্তিত্ব রক্ষার্থে অবিলম্বে উপরোক্ত সমস্যাগুলো সমাধানে জোর দাবী জানানো হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য