খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য চাইলেন ওবায়দুল কাদের

খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য চাইলেন ওবায়দুল কাদের

জাতীয়

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আইনের কারণেই আমরা অপারগ। এটাই একমাত্র কারণ। তারপরও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আমরা আগেও বলেছি, বিদেশ থেকে ডাক্তার নিয়ে আসুন।’

আজ সোমবার সকালে নবাবগঞ্জ পার্কে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ইউনিট সম্মেলনে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। আইনে জটিলতার দাবি করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘আমরা বেগম জিয়ার মৃত্যু কামনা করি না। তিনি দ্রুত আরোগ্য লাভ করুক, এটা আমরা চাই। কিন্তু সবকিছুর একটা নিয়ম আছে। আইনমন্ত্রী বলেছেন। এরপর এ বিষয় নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না।’
বিজ্ঞাপন

বিএনপির উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যাঁকে মারতে চেয়েছেন (শেখ হাসিনা), তিনিই মানবিক হয়েছেন খালেদা জিয়ার প্রতি। কিন্তু আপনারা তাঁর পিতাকে হত্যা করেছেন আর তাঁকে হত্যা করার জন্য গ্রেনেড হামলা করেছেন। বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবুন, তাঁকে নিয়ে আর রাজনীতি করবেন না।’

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার জন্য বিএনপি দায়ী, এমন দাবি করে সরকারদলীয় এই নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলা সাত বছর তারা ঝুলিয়ে রেখেছে। কিন্তু এখন তাঁর জন্য তারা মায়াকান্না কাঁদে। খালেদা জিয়া যদি বেশি অসুস্থ হন, তাহলে তার জন্য দায়ী বিএনপি। বিএনপি খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে যত কথা বলেছে, তার চেয়ে বেশি রাজনীতি করেছে।

সারা দেশে বিআরটিসি বাসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার জন্য বেসরকারি বাসমালিকদেরও শেখ হাসিনা নিজে অনুরোধ করেছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, “বিআরটিসি ৫০ শতাংশ করে দাও।” আমরা ভাড়া মওকুফ করেছি। দাবি অনুসারে ঢাকা সিটিতে কনসেশন দেওয়ার কথা, নেত্রী বললেন, “সারা দেশেই দাও।” নেত্রী নিজে অনুরোধ করেছেন বেসরকারি বাসমালিকদের, আমিও করেছি। তাঁরা আমাকে গতকালও বলছেন আজকে তাঁরা বৈঠক করবেন।’

বাসমালিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে। ছাত্ররা ছাড় বহু আগে থেকেই পেত।’ এই বিষয়ে মালিকেরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ছাত্রদের রাস্তায় দেখতে চাই না। তারা ক্যাম্পাসে ফিরে যাক। তাদেরও ফখরুল সাহেবরা সাপোর্ট করার নামে উসকানি দিচ্ছে।’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ ভোটার কেন্দ্রে গেছেন। নারীরা ভোর থেকে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। অথচ কিছু বুদ্ধিজীবী ও রাজনীতিক বলেন, মানুষ নাকি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন! তিনি বলেন, ভোটারের উপস্থিতি সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। বিষয়টি অত্যন্ত ভালো লক্ষণ।

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মানুষের মন জয় করতে হলে ভালো আচরণ দিয়ে জয় করতে হবে। মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে সরকারের অর্জন ম্লান হয়ে যাবে। মনে রাখবেন, একটা খারাপ আচরণ দশটা উন্নয়নকেও ঢেকে দিতে পারে। মানুষকে অখুশি করলে, ক্ষমতার দাপট দেখালে মানুষ হয়তো এখন আপনাদের ভয় করবে। কিন্তু নির্বাচন যখন হবে, ব্যালটের মধ্যে শাস্তি দেবে। নির্বাচনে খারাপ ব্যবহারের শাস্তি পেতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ আসে; সন্ত্রাস, জমি দখল, বাড়ি দখলের অভিযোগ আসে; মাদক ব্যবসার অভিযোগ আসে—এসব অপকর্ম দলের উন্নয়নকে ম্লান করে দিচ্ছে। নেত্রী এত উন্নয়ন করেন, তাঁরাই সব ধ্বংস করে দিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহম্মেদ মান্নাফি ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, স্থানীয় সাংসদ হাজী মোহাম্মদ সেলিম উপস্থিত ছিলেন।