ঘুস দাবির মামলায় এলজিইডির ৫ প্রকৌশলীর বিচার শুরু

ঘুস দাবির মামলায় এলজিইডির ৫ প্রকৌশলীর বিচার শুরু

রংপুর

রংপুরে ঘুস দাবির অভিযোগে করা মামলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পাঁচ প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে আগামী বছরের ২৫ জানুয়ারি।

এ মামলার আসামিরা হলেন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রংপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আখতার হোসেন (বর্তমানে ঢাকায় কর্মরত), এলজিইডি রংপুর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী কাওছার আলম, একই কার্যালয়ের সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফিরোজ আখতার, সদর উপজেলা প্রকৌশলী শামসুল আরেফীন খান ও সাবেক সহকারী প্রকৌশলী সৌরভ কুমার সাহা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট এ কে এম হারুন-উর রশীদ। তিনি জানান, রোববার অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। রংপুরের জ্যেষ্ঠ জেলা জজ (বিশেষ আদালত) আদালতের বিচারক রেজাউল ইসলাম এ আদেশ দেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার কাজ শুরু হয়েছে।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রংপুর এলজিইডির আওতায় ৪ কোটি ২৬ লাখ ও ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে দুটি প্যাকেজে মোট ৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকার কাজের দরপত্র আহবান করা হয়। বিধি মোতাবেক ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ও ওই বছরের ৪ মার্চ দরপত্র জমা দেন নগরীর নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়ার মৃত আশরাফ উদ্দিন আহম্মেদের ছেলে ঠিকাদার রবিউল আলম বুলবুল।

দরপত্র দুটি গ্রহণ ও অনুমোদন করার পরেও নোটিফিকেশন অফ অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) না দিয়ে রবিউল আলম বুলবুলের কাছে মোট কাজের (৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকা) দুই শতাংশ হারে ঘুষ দাবি করেন দুই প্রকৌশলী আখতার হোসেন ও কাওছার আলম। এ অবস্থায় ঠিকাদার রবিউল আলম বুলবুল দুই শতাংশ টাকা না দেয়ায় তাকে নিষ্ক্রিয় হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয় এবং সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েও তাকে কাজ না দিয়ে অন্য একজনকে কাজ দেয়া হয়।

এ ঘটনায় রবিউল আলম বুলবুল বাদী হয়ে সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে (দুদক) এলজিইডি রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আখতার হোসেন এবং সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির চেয়ারম্যান কাওছার আলমকে আসামি করে ২০১৯ সালের ৭ মে মামলা দায়ের করেন।

এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক সমন্বিত রংপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে মামলার দুই আসামি ছাড়াও আরও তিনজন প্রকৌশলীসহ মোট পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়।

এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন, দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এ কে এম হারুন-উর রশীদ বলেন, আদালতে পাঁচ আসামির উপস্থিতিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আগামী বছরের ২৫ জানুয়ারি ওই মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে। সুত্রঃ যুগান্তর