নিরীহ গ্রামবাসীর নামে মামলার প্রতিবাদে রংপুরে মানববন্ধন

নিরীহ গ্রামবাসীর নামে মামলার প্রতিবাদে রংপুরে মানববন্ধন

রংপুর

রংপুরের পীরগাছায় পরিত্যক্ত বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা সাঁজিয়ে গ্রামের নিরীহ ৬ ব্যক্তিকে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠছে সাইদুর রহমান নামে এক মামলাবাজ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একের পর এক মামলা দিয়ে ৬টি পরিবারের জীবন দূর্বিসহ করে তুলছে ওই ব্যক্তি। অসহায় পরিবারগুলোর দু:খ-দুদর্শা দেখে বৃহস্পতিবার সকালে কয়েক শতাধিক এলাকাবাসী সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। উপজেলা কৈকুড়ী ইউনিয়নের মকরমপুর গ্রামে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষ ও শিশুরাও উপস্থিত হন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই গ্রামের সাইদুর রহমানের সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দ্বন্দ চলে আসছিলো তার প্রতিবেশি আমজাদ হোসেন, আনারুল মিয়া, মোহাব্বত আলী, বৃদ্ধ বুলু মিয়া, জুলু মিয়া ও নুরুল ইসলামের। এনিয়ে সাইদুর রহমান জমিজমা সংক্রান্ত একে একে চারটি মামলা দায়ের করেন। সেসব মামলায় ঘুরেফিরে এরাই আসামী। এতেও সে জমি দখলে নিতে না পেরে গত গত ২২ সেপ্টেরম্বর রাতে তার বাড়ি ডাকাতি করে ১৩ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে মর্মে একটি এৎাহার পীরগাছা থানায় জমা দেন।

থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডাকাতির কোন সত্যতা না পেয়ে মামলাটি না নিলে সাইদুর রহমান গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত, পীরগাছা, রংপুরে আবেদন করেন। পরে আদালতের নির্দেশে পীরগাছা থানায় গত ১০ অক্টোবর মামলাটি তালিকাভূক্ত করা হয়। যার নং০৬। ওই মামলায় ভূক্তভোগী ৬ আসামি বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। এই আসামি কেউ মাছ বিক্রেতা, কেউ জেলে, কেউ দিনমজুর। এদের মধ্যে বৃদ্ধা তিন জনই বিভিন্ন রোগে অসুস্থ্য।

এসব মিথ্যা ও হয়রানীমূলক মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে ওই গ্রামের শতাধিক ব্যক্তি গত ২৭ সেপ্টেম্বর রংপুর পুলিশ সুপার বরাবর একটি আবেদনও করেন। এদিকে মামলাবাজ সাইদুর রহমানের অব্যাহত হুমকি ও একের পর এক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদেও বৃহস্পতিবার স্থানীয় মকরমপুর হাইস্কুল সংলগ্ন সড়কে মানববন্ধন করেন ওই গ্রামের কয়েক শতাধিক মানুষ। এ সময় বক্তব্য দেন, ওই গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষক ময়েন উদ্দিন, ইউছুব আলী, দিনমজুর শাহজাহান আলী, সমি বেগম, লাভলী বেগম প্রমুখ।

বক্তাগণ বলেন, মামলার বাদি সাইদুর রহমানের বাড়িতে কেউ থাকেন না। তিনি ঢাকায় থাকেন। তার পিতা-মাতা মেয়েদেও বাড়িতে থাকেন। দীর্ঘদিন থেকে বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সেই বাড়িতে কেউ কি ১৩ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার রাখবে? বাড়ি ডাকাতি হলে গ্রামের লোকজন জানতো। কিন্তু কেউ কিছু জানে না। একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানী করা হচ্ছে। আমরা ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে নিরীহ গ্রামবাসীর মুক্তির দাবি করছি।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান মিয়া বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে ও ছায়া তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয়া হবে।