রংপুরে ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী. উদ্ধারে কাজে সেনাবাহিনী

রংপুরে ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী. উদ্ধারে কাজে সেনাবাহিনী

রংপুর

রংপুরে উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিবন্দীদের উদ্ধারে কাজ করে সেনাবাহিনী। এ ছাড়া তিস্তা নদীতে সর্বোচ্চ পানি রেকর্ড করা হয়েছে।

পাউবো জানায়, ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ভারী বর্ষণের কারণে গজলডোবার সব গেট খুলে দেয় ভারত। এতে করে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তিস্তার পানি হু হু করে বাড়তে থাকে। বুধবার সকালে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদ সীমার ৭০ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী, আলমবিদিতর, কোলকোন্দ, লহ্মীটারী, গজঘন্টা, মর্ণেয়া ইউনিয়নসহ কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার চর, দ্বীপচর ও তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে।

পানির তীব্র স্রােতে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জরুরী অবস্থা মোকাবেলাসহ জানমাল রক্ষায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা মাইকিং করে সকলকে নিরাপদ স্থানে অবস্থানের জন্য আহ্বান জানায়। বুধবার রাতে বন্যায় পরিস্থিতির অবনতি হলে গঙ্গাচড়ার লহ্মীটারী ইউনিয়নে উদ্ধার তৎপরতা চালায় সেনাবাহিনী। স্পিড বোটের মাধ্যমে চরগুলো থেকে পানিবন্দীদের নিরাপদ স্থানে উদ্ধার করে আনা হয়। এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দী মানুষের মাঝে ত্রাণ হিসেবে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

খোঁজ মেলেনি নয়া মিয়ার : স্থানীয়রা জানান, বুধবার বিকেলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে থাকলে পানিবন্দী হয়ে পড়ে পশ্চিম ইচলীর মানুষজন। বিকেল ৫টার দিকে পানি বাড়ার সাথে নদীতে ঘরবাড়ি বিলীন হতে থাকলে কৃষক নয়া মিয়া (৫৫) গরু বাঁচাতে গোয়াল ঘরে ছুটে যান। গরুর রশি খুলতেই গোটা ঘর পানিতে ভেসে যায়। নিখোঁজ নয়া মিয়াকে উদ্ধারে স্থানীয়রা চেষ্টা চালালে এখন পর্যন্ত তার হদিস পাওয়া যায়নি। লহ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, তিস্তার পানিতে নয়া মিয়া ঘরসহ ভেসে গেছে। এখনও তার লাশ পাওয়া যায়নি।

তিস্তায় রেকর্ড পরিমান পানি : বুধবার তিস্তা নদীতে সর্বোচ্চ পরিমান পানি রেকর্ড করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে সর্বোচ্চ পানি রেকর্ড করা হয় ৫৩ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। বুধবার তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ৫৩ দশমিক ৩০ সেন্টিমিটারে গিয়ে দাঁড়ায়। যা তিস্তা নদীর পানির উচ্চতায় রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা পাউবো।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবীব বলেন, বুধবার তিস্তা নদীতে সর্বোচ্চ পরিমান পানি রেকর্ড করা হয়েছে। নদীর পানির তীব্র স্রােতে গঙ্গাচড়ার ডান তীরের গান্নার পাড় ঝুঁকিতে ছিল। বর্তমানে পানি অনেক কমে গেছে। তবে কাউনিয়া পয়েন্টে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পানি বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। রাতেই মধ্যেই কাউনিয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। ভারতে এখন বৃষ্টির হওয়ার শংঙ্কা নেই। তাই রংপুরেও আরও বন্যা হওয়ার কোন পূর্বভাস পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপনসহ ভাঙ্গন প্রতিরোধে জরুরী কাজ করা হচ্ছে।