বিএসটিআইকে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা হবে: শিল্পমন্ত্রী

বিএসটিআইকে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা হবে: শিল্পমন্ত্রী

জাতীয়

রফতানি বাণিজ্যে বিএসটিআই’র গুরুত্ব তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেছেন, মানসম্মত পণ্য উৎপাদন ও রফতানি বাড়াতে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদনের বিকল্প নেই আর এটা বাস্তবায়ন করতে হলে বিএসটিআইকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বিএসটিআই প্রধান কার্যালয়ে বিশ্ব মান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘সমন্বিত উদ্যোগে টেকসই উন্নত বিশ্ব বিনির্মাণে – মান’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএসটিআই’র মহাপরিচালক ড. মো. নজরুল আনোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন,শিল্পায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে ‑ দেশে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো। রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য বিএসটিআই হালাল সার্টিফিকেশন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এসডিজি বাস্তবায়নে বিএসটিআই’র বিশাল সম্ভাবনা ও দায়িত্ব রয়েছে। দেশে ও বিদেশে ক্রেতার আস্থা অর্জনের জন্য বিশ্বমানের শিল্প অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববাজারে দেশীয় পণ্যের অবাধ প্রবেশের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পণ্য উৎপাদন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে শিল্প সচিব বলেন,আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ে বিএসটিআই’র ল্যাবরেটরি সম্প্রসারণের যে কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে তা দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। এসকল ল্যাব প্রতিষ্ঠিত হলে বিএসটিআই বিশ্বমানের সংস্থায় রূপান্তরিত হবে। ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য রোধ করতে সারা বছর মাঠ পর্যায়ে বিএসটিআই’র কার্যক্রম চলমান থাকবে। তিনি বিএসটিআই’র কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রভাবমুক্ত হয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি মানসম্মত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করতে ব্যবসায়ীদেরকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট বলেন,পণ্যের বহুমুখীকরণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান জোরদার করতে হবে। তিনি আরও বলেন,এখন আর শুধু প্রবাসী বাংলাদেশীদের বাজার নয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় বড় বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের অবস্থান সুসংহত করতে হবে। এক্ষেত্রে বিএসটিআই’র ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিএসটিআই’র মহাপরিচালক বলেন,মানসম্পন্ন পণ্য এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিতকরণে মাঠ পর্যায়ে বিএসটিআই’র প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের কার্যক্রম,পণ্য পরীক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মানের নতুন নতুন ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং বিদ্যমান ল্যাবরেটরিগুলোকে নতুন নতুন পণ্য পরীক্ষণ প্যারামিটার সংযুক্তিকরণ,বিএসটিআই’র মানচিহ্ন নকল ও অবৈধ ব্যবহার প্রতিরোধে অনলাইন কিউআর কোড সম্বলিত লাইসেন্স প্রদান,পণ্যের হালাল সনদ প্রদান,স্বর্ণের বিশুদ্ধতা যাচাইপূর্বক সনদসহ তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ এমপি,শিল্প মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা,বিএসটিআই’র কাউন্সিলের সদস্য,মান প্রণয়নে বিশেষজ্ঞ,শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্টেকহোল্ডার ও সাংবাদিকরা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন।