দেশের বন্দরগুলোতে পরীক্ষা হচ্ছে না আমদানি করা ফলমূলের ফরমালিন

দেশের বন্দরগুলোতে পরীক্ষা হচ্ছে না আমদানি করা ফলমূলের ফরমালিন

জাতীয়

দেশের স্থলবন্দরগুলোতে আমদানিকৃত ফলমূলের ফরমালিন পরীক্ষা হচ্ছে না। মূলত ফরমালিন পরীক্ষায় রাসায়নিক পরীক্ষাগার নির্মাণে অগ্রগতির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অথচ ৯ বছর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আমদানি করা ফলমূল পরীক্ষা করতে এবং দেশের সব স্থলবন্দরে রাসায়নিক পরীক্ষাগার নির্মাণ করতে উচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু রাসায়নিক পরীক্ষাগার না থাকায় স্থলবন্দরগুলোতে আমদানি করা ফলমূলের ফরমালিন পরীক্ষা করা হচ্ছে না।

তবে চট্টগ্রাম কাস্টমসে রাসায়নিক পরীক্ষাগার থাকলেও লোকবলের স্বল্পতায় পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত দেশের সব স্থল ও নৌ-বন্দরে ৬ মাসের মধ্যে রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপন এবং আমদানি করা ফলমূল কেমিক্যালমুক্তকরণ নিশ্চিত করতে এনবিআরকে নির্দেশ দেন। তার ৮ বছর পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে পরীক্ষাগার স্থাপনের অগ্রগতি প্রতিবেদন এনবিআর উচ্চ আদালতে জমা দেয়।

ওই প্রেক্ষিতে আদালত এনবিআরকে আরো ৩ মাস সময় দেয়। কিন্তু ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও দেশের বন্দরগুলোতে পরীক্ষাগার নির্মাণ কাজের অগ্রগতি নেই। দেশের স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে এডিবি (এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক) সহায়তা দিচ্ছে। তার আওতায় পরীক্ষাগারও নির্মাণ করা হবে। ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় একটি কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরি নির্মাণের লক্ষ্যে গঠিত কমিটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ করছে। যদিও করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি টেস্ট) কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পুরোদমে কাজ চলছে।

সূত্র জানায়, দেশে চট্টগ্রাম ও বেনাপোল দিয়েই বেশি ফল আমদানি হয়। আর ওই দুটি বন্দরে রাসায়নিক পরীক্ষাগারও আছে। বাকি স্থলবন্দরগুলোতে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ফরমালিন পরীক্ষা করা হয়। আর ওই পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ফল খালাস করা হয়।

তবে সম্প্রতি পরীক্ষাগারে লোকবল স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস ফলের ফরমালিন পরীক্ষা বন্ধ রাখার দিকনির্দেশনা চেয়ে এনবিআরে চিঠি দিয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, প্রতিদিন গড়ে ১০০টি চালানের বিপরীতে আমদানি করা ফলমূলের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। অথচ ল্যাবে মাত্র একজন পরীক্ষক রয়েছে। নমুনা পরীক্ষা করতে দিনের অর্ধেকের বেশি সময় ব্যয় হয়ে যায়। ফলমূল ছাড়াও অন্যসব পণ্যের ৫০টির বেশি নমুনা ল্যাবে প্রতিদিন পাঠানো হয়। একজন পরীক্ষককে দিয়ে এতো নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষা করায় চালান খালাসে বিলম্ব হচ্ছে। শুরুর দিকে ফলে ফরমালিনের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও এখন তেমন পাওয়া যায় না। তাছাড়া বেনাপোল, সোনামসজিদ, ভোমরাসহ বিভিন্ন স্থলবন্দরে ফলের পরীক্ষা করা হয় না। তাই পরীক্ষাগারে নতুন জনবল না আসা পর্যন্ত ফরমালিন টেস্ট বন্ধ রাখতে চিঠিতে দিক-নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা ভারতীয় ফলের ফরমালিন পরীক্ষা করা হয় না। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে পরীক্ষা করা হলেও করোনা সংক্রমণের শুরুতেই তা বন্ধ হয়ে যায়। যদিও নানা কারণে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানিতে ধস নেমেছে। তবে ২ বছর আগেও ওই বন্দর দিয়ে দৈনিক শতাধিক ট্রাক ভর্তি ভারতীয় ফল এলেও বর্তমানে মাত্র ১০ থেকে ১২টি ট্রাক আনার ও কমলা ঢুকছে। মাঝে মধ্যে দু-একটি ট্রাকভর্তি আপেল ও আঙুর আসে। ফরমালিন পরীক্ষার জন্য কাস্টমসের কোনো মেশিনারিজ সাপোর্ট না থাকায় পরীক্ষা ছাড়া ফল খালাস করতে হচ্ছে।

একইভাবে বেনাপোল স্থলবন্দরেও ভারত থেকে আমদানি করা ফলের ফরমালিন পরীক্ষা করা হয় না। স্থানীয় উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র শুধু জার্মিনেশন পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেয়। প্রতিদিন ভারত থেকে ওই বন্দর দিয়ে ৭০-৮০ ট্রাক লেবু, আপেল, আনার, মালটা ও আঙুর আমদানি হয়। আর শুধুমাত্র শুল্ক-কর আদায় করে ফলের চালান খালাস করা হয়।

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার আজিজুর রহমান জানান, বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা ফলমূলে ফরমালিন পাওয়া যায়নি। কারণ ভারত থেকে যেসব ফল আমদানি হয় তা সরাসরি বাগান থেকে তুলে বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়। ১-২ দিন দেরি হলে ফলে পচন ধরতে শুরু করে। আর সমুদ্রপথে আমদানি করা ফল দেশে আসতে দীর্ঘ সময় লাগায় পচন ঠেকাতে ফরমালিন দেয়া হয়।